বেশ কয়েকদিন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগার পর বাবার সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে আনসারদের নির্মমতার শিকার হলো এক মাস বয়সী শিশু আব্রাহাম সিহান। বকশিশ না দিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ করায় শিশুটির বাবা আরিফকে বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে শিশুটিকেও মেঝেতে ছুড়ে ফেলে আনসার সদস্যরা। এ ঘটনায় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে সিহান। ছোট্ট এ শিশুর সঙ্গে চরম নির্মমতার ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। মাথার আঘাত নিয়ে শিশুটি বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

সিহানের বাবা মো. আরিফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাচ্চাটা গত কয়েকদিন অসুস্থ। হাঁপানির সমস্যা। শিশু হাসপাতালে বহির্বিভাগের ডাক্তার তাকে দ্রুত ভর্তি করাতে বলেন এবং অক্সিজেন সরবরাহ করতে বলেন। সে অনুযায়ী, আমরা তাড়াহুড়ো করে সিহানকে ভর্তি করানোর জন্য ওয়ার্ডে প্রবেশ করতেই আনসার সদস্যরা টাকা দাবি করেন। আমি তাদের একটু অপেক্ষা করতে বলি যে বাচ্চাটাকে বেডে দিয়ে এসে আপনাদের বকশিশ দিচ্ছি। কিন্তু তারা এতে রাজি না হয়ে উল্টো আমাকে মারধর শুরু করে। আমার স্ত্রী ও মা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করে তারা। একটা পর্যায়ে আমার কোল থেকে সিহানকে কেড়ে নিয়ে বারান্দায় ছুড়ে ফেলে। মেঝেতে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছে সিহান। ডাক্তার তার সিটি স্ক্যান করাতে বলেছেন।’ সিহানের দাদা সালাউদ্দিন বণিক বার্তাকে জানান, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সিহানকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। 

রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। শিশু সিহানকে ছুড়ে ফেলা ও তার স্বজনদের ওপর হামলার প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে নুর হোসেন ও মো. কাসেম নামের দুই আনসার সদস্যকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহাদ আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক মাসের শিশু সিহানকে বাবার কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলা ও তার স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগের ভিত্তিতে দুই আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটি একটি শিশু হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা শিশু। তাদের সঙ্গে কিংবা তাদের স্বজনদের সঙ্গে এ ধরনের অসদাচরণ খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর নয়বার হাসপাতালের সব আনসার পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও তাদের এ ধরনের অসদাচরণের প্রবণতা কমেনি। মাঝে ভেবেছিলাম, করপোরেট হাসপাতালগুলোর মতো সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতে।’ 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী উপপরিচালক আম্মার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিশু হাসপাতালসহ সব হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের প্রতিদিন সকালে একটা ব্রিফিং দেয়া হয়। তাদের রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। এর মধ্যে দু-একজন যদি ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত হয় বা অসদাচরণ করে, তার দায় অবশ্যই বাহিনীর নয়, ব্যক্তির। বাহিনীর নিয়মানুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।’