প্রাচীন আমল থেকে খাঁটি দুধের মাঠার জন্য বিখ্যাত মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দলবেঁধে ছুটে আসে বিক্রমপুরের সুস্বাদু এ খাবারের স্বাদ নিতে। বিগত কয়েক যুগ ধরে দেশব্যাপী সুখ্যাতি ছড়িয়েছে আলদি মাঠা।

প্রায় ৪০ বছর ধরে এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ঘোষবাড়ীর মাঠা বিক্রেতারা। মাঠার স্বাদ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ছুটে আসে অসংখ্য মানুষ। প্রায় ৫৫-৬০ মণ মাঠা বিক্রি হয় আলদি বাজারে। প্রতি লিটার মাঠা বিক্রি হয় ১৪০ টাকা এবং প্রতি গ্লাস ৩০ টাকা।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আসা রাব্বি রহমান বলেন, ‘আমি ইউটিউবে দেখেছি এখানকার মাঠা খুবই সুস্বাদু। দুই বন্ধুকে নিয়ে মাঠা খেতে চলে এসেছি। এটা কেউ না খেলে বুঝবে না কতটা সুস্বাদু।’

আলদির মাঠা বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল ৯টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। প্রতিদিন তিন-চার মণ মাঠা বিক্রি করতে পারি। তবে শুক্রবার আরো বেশি মাঠা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এখানে মাঠা খেতে আসে।’

রাজধানীর বনানী থেকে আসা সিমন পাপ্পু বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে ছয়-সাতজন একসঙ্গে এসেছি। এখানকার মাঠা খুবই ভালো। আমরা এখানে এসে খেয়ে যাই, আবার সঙ্গে করে নিয়েও যাই।’

নারায়ণগঞ্জের পোশাক ব্যবসায়ী হৃদয় সাহা বলেন, ‘মানুষের মুখে দীর্ঘদিন নাম শুনেছি। কিন্তু এখন এখানে এসে খেয়ে অন্য রকম একটা তৃপ্তি পেলাম।’

আলদি বাজারের মাঠার খ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন কমল ঘোষ। তিনি এখানে মাঠা বিক্রি করছেন ৩৫-৪০ বছর ধরে। খাঁটি দুধের টক দই, বরফ, লবণ আর সামান্য চিনি মিশিয়ে নিজ হাতে তৈরি করেন মাঠা।

বণিক বার্তাকে কমল ঘোষ বলেন, ‘এখানে মাঠা খেতে অনেক দূর থেকে লোকজন আসে। খেয়ে ভালো লাগে তাই আসে। আমরা এখানে খাঁটি দুধের তৈরি মাঠা বিক্রি করি। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ৪০ বছর ধরে এখানে মাঠা বিক্রি করছি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে মাঠা খেতে আসে।’

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে মাঠা নিতে আসা গৌতম পাল বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই দূর থেকে এখানে মাঠা নিতে এসেছি। বেশকিছু ইউটিউব চ্যানেলে দেখছিলাম, এখানকার মাঠা খুব সুস্বাদু। তাছাড়া এখানে ভালো মাখন ও ছানা পাওয়া যায়।’

টুম্পা আক্তার নামে এক তরুণী বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে এখানে মাঠা খেতে এসেছি। আমার ভাই শান্ত প্রায় এখানে মাঠা খেতে আসে। ও বলছে এখানকার মাঠা খুব সুস্বাদু। খেয়ে মনে হলো মাঠাটা আসলেই অনেক সুস্বাদু।’

আলদির আরেক মাঠাবিক্রেতা রিংকু মালত বলেন, ‘আমাদের এখানে মাঠা খেতে বিভিন্ন জেলা থেকে লোক আসে। আর মুন্সিগঞ্জের লোকজন তো আসেই। বিক্রিও ভালোই হচ্ছে প্রতিদিন, এতে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় হচ্ছে আমাদের।’