সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন যে স্ট্রেইনটি দেখা দিয়েছে তা আগেরটির চেয়ে ৭০ শতাংশ দ্রুততর গতিতে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ঠিক এ কারণেই অনেক দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আকাশপথের যাতায়াত বন্ধ রাখলেও ফ্লাইট বন্ধ করেনি বাংলাদেশ। তবে দেশটি থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ সঙ্গে থাকলেও ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এজন্য ঢাকায় আগত যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনের জন্য সাতটি হোটেলকে অনুমোদন দিলেও সিলেটের জন্য হোটেলের তালিকা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, যুক্তরাজ্য থেকে সোমবারের ফ্লাইটে যেসব যাত্রী সিলেট আসবেন, তাদের জন্য দুটি হোটেল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিগগিরই আরো পাঁচটি হোটেল যুক্ত করার কাজ চলছে।
বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যুক্তরাজ্যফেরত যাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সনদ থাকার পরও ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করতে গত ২৯ ডিসেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, যাত্রীরা কীভাবে, কার ব্যবস্থাপনায় থাকবেন তা নির্ধারণ করবেন বিমানবন্দরে কর্তব্যরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।
এদিকে যুক্তরাজ্যফেরতদের জন্য ঢাকার সাতটি হোটেলকে অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। হোটেলগুলোয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে যাওয়া যাত্রীদেরই নিজেদের খরচ বহন করতে হবে। তবে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সিলেটে অবতরণ করবেন যেসব যাত্রী, তাদের জন্য হোটেলের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেটে যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে আদেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিভাগীয় কমিশনারকে হোটেলের তালিকা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। তবে গতকাল পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কোনো তালিকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় পাঠানো হয়নি।
বেবিচকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন বিদেশী এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১ হাজার ৩০০ যাত্রী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসছেন। এর মধ্যে সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার দুটি ফ্লাইট যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ দুটি ফ্লাইটে চার শতাধিক যাত্রী আসেন। আগামী সোমবার ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে সিলেটে একটি ফ্লাইট আসার কথা রয়েছে। সেই যাত্রীদের জন্য এরই মধ্যে দুটি হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সোমবার যারা আসবেন তাদের জন্য সিলেট নগরীর হোটেল স্টার প্যাসিফিক ও হোটেল হলি গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীরা নিজ খরচে এসব হোটেলে থাকবেন।’
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান জানান, ৬০০ থেকে ৬৫০ যাত্রীর জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাঁচ থেকে সাতটি হোটেলের ব্যবস্থা করা হবে। এর জন্য হোটেল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সিলেটে ঢাকার মতো মানসম্মত হোটেল বেশি না থাকায় তালিকা করতে দেরি হচ্ছে। খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হোটেলের নাম ও মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘সিলেটের হোটেল নির্ধারণের দায়িত্ব আমাদের নয়। এটা বিভাগীয় কমিশনারের করার কথা। আমরা এখনো তালিকা পাইনি। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সিলেটে ১০০ যাত্রী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই বিদেশফেরতদের নিজ খরচে হোটেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়ম রয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের পাশাপাশি আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রবাসীদের হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল বেবিচক।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সিলেট প্রতিনিধি দেবাশীষ দেবু)










