খুলনায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য ক্রয়ে জুড়ে দেয়া হচ্ছে শর্ত। একসঙ্গে ছয় কেজি পেঁয়াজ কিনলে তবেই মিলছে অন্যান্য পণ্য। শর্ত না মানলে পণ্য বিক্রি করছেন না ডিলাররা। এসব পেঁয়াজের বেশির ভাগই আবার পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত। ডিলারদের এমন অনিয়মে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর গল্লামারী লায়ন্স স্কুলের সামনে ট্রাকে করে সয়াবিন তেলের দুই লিটারের বোতল ২০০ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা ও মসুর ডাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন টিসিবির ডিলাররা। পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৩০ টাকা কেজি দরে। একজন গ্রাহক ছয় কেজি পেঁয়াজ না কিনলে অন্য পণ্য বিক্রি করছে না ডিলাররা।

ক্রেতারা বলছেন, টিসিবির চিনি, ডাল ও তেল কিনতে ইচ্ছুকদের ছয় কেজি করে আমদানীকৃত বড় সাইজের পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব পেঁয়াজের অধিকাংশই পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত। প্যাকেজের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৬০০ টাকা। নগরীর রূপসা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিসিবি ডিলার আর আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নূর আলম প্যাকেজের বাইরে কোনো মালামাল বিক্রি করছেন না। পেঁয়াজ কিনলেই অন্য পণ্য দেয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডিলার জানান, আমদানি করা পেঁয়াজের বেশির ভাগই পচা। তার পরও প্রত্যেক ডিলারকে বাধ্যতামূলকভাবে এক টন পেঁয়াজ, ৪০০ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৪০০ কেজি চিনি ও ৩০০ কেজি মসুরের ডাল বরাদ্দ দিয়েছে টিসিবি। পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় এবং বাধ্য হয়ে তারা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ছয় কেজি পেঁয়াজ কিনলেই তবে অন্য পণ্য বিক্রি করা হবে।