দিনে গরম থাকলেও শেষ রাতে ঠাণ্ডার প্রভাব এখনো রয়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে দেড় হাজার শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যার বিপরীতে ৯৪টি শিশু ভর্তি রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তিন-চার গুণ রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে।

রোগীর অভিভাবক ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল থেকে ওষুধ না পেয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলার টেংরাখালী গ্রাম থেকে দেড় বছরের শিশুসন্তান ফাহিমকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন রহিমা বেগম। তিনি জানান, সাতদিন আগে শিশুটি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় ডাক্তারদের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু জ্বর না কমায় চারদিন আগে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন একটু ভালো। তবে সব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে।

শরণখোলা থেকে ছয় মাসের শিশুসন্তান সাহাদ বিন বশিরকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন বাবা মুফতি বশিউর রহমান। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে ছেলেটি অসুস্থ। তাই বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। এখানে সপ্তাহে তিনদিন ডাক্তার পাওয়া যায়। শুধু হাসপাতাল থেকে গ্যাস ছাড়া আর কিছু দেয় না। বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।

হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রহিমা খাতুন জানান, রোগীদের চাপ অনেক বেশি। মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ কম। সে তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি।

হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শিহান মাহমুদ জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়ার কথা বলেন এ চিকিৎসক।