গাইবান্ধায় অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় জেলার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। পরপর দুই দফা বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার পাটখেত, আউশ ধান ও আমনের বীজতলাসহ ৩ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
প্রাথমিকভাবে কৃষকের ৭৬ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার দুই দফা বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার পাটখেত, মরিচ, আউশ ধান ও আমনের বীজতলাসহ ৬ হাজার ৪৩৬ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৭৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪০২ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জে ৮৬৮, সাঘাটায় ৫৩৪, ফুলছড়িতে ২ হাজার ৮৫, পলাশবাড়ীতে ২৫, সাদুল্লাপুরে ২৯৫ ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ঝানঝাইড় গ্রামের কৃষক আনসার আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্যায় আমার এক বিঘা জমির হাইব্রিড মরিচ ও ৪২ শতক জমির পাট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলার সাতটি উপজেলায় বন্যায় ৬ হাজার ৪৩৬ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আমন ধানের বীজ আমাদের কাছে মজুদ করা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা আমরা এরই মধ্যে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে।’










