বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা কৃতিত্বের জন্য আন্দোলন করিনি। এই আন্দোলন ছিল দেশের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের মালিকানা ফেরানোর জন্য। বিএনপির মধ্যম পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এমন নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যেটা সাধারণ মানুষ দেখেনি। কারণ এদের অনেকের দুর্দশা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। যারা ক্যামেরায় এসেছেন, তাদের ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু লাখ লাখ নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠ, যন্ত্রণার চিত্র আমাদের অজানা রয়ে গেছে।’
গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতন উৎসব’ কর্মসূচির সমাপনী দিনে ‘সাংবাদিক-ছাত্র-জনতার সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, ‘সারা দেশে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা পঙ্গু বা অন্ধ হয়েছেন তাদের অনেকেই আলোচনায় আসেননি। অথচ তারাও এই আন্দোলনের নীরব যোদ্ধা। এই আন্দোলন বাংলাদেশের ১৮-২০ কোটি মানুষের আন্দোলন। কারণ এই কৃতিত্ব বিএনপির নেয়ার দরকার নাই। আমরা কৃতিত্বের জন্য আন্দোলন করি নাই। আমরা দেশের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করেছি। কারণ আমরা যদি কৃতিত্বের দাবি করি তাহলে দেশ বিভক্ত হবে। আমরা কিন্তু বাংলাদেশের বিভক্তি চাই না।’
গতকাল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর অবিচার হয়েছে। ৬০-৭০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, কয়েক হাজার লোক গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে, জেলখানার মধ্যে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। গত ৫ আগস্ট আমি নিজেও কারাগারে বন্দি ছিলাম। জুলাইয়ের ত্যাগের প্রতি আমরা যদি সম্মান জানাতে চাই, তাহলে যার যার অবস্থান থেকে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে এই ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে।’
ভেটেরিনারি সায়েন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি ইত্যাদি খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর সেটাই হবে নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে এককভাবে রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমাদের গণতন্ত্র পরিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। সেই গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য আমাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।’
এ সময় সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. ওমর ফারুক ইউসুফসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।










