উজানের পানির ঢল ও ভারী বৃষ্টির ফলে রংপুর বিভাগের চার জেলার ৪৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। এসব স্কুলের চারপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পানি ঢুকেছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয় বন্যা কবলিত মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিভিন্ন জেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকাসহ নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় আরো কিছু বিদ্যালয় বন্ধ হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দীঘলকান্দি চরের দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে বন্যার পানি ঢুকে পরায় বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, গত আট দিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ আছে। কবে নাগাদ পাঠদান শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার নতুন করে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন পানি কমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। শুধু পানি কমলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে বসা ও পাঠদানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বন্যা কবলিত মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কুড়িগ্রামের গৌড়মোহন হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোছা. জোবেদা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়টির আশেপাশে প্রায় ২২টি পরিবার বসবাস করেন। উজানের পানি ও ভারী বৃষ্টিপাতে ব্রক্ষ্মপুত্রের পানি চরে প্রবেশ করায় চারদিকে শুধু অথৈ পানি। তবে বিদ্যালয়টির অবস্থান উঁচুতে হওয়ায় গত সাত দিনে ১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে নদীগুলোতে যে হারে পানি বাড়ছে তাতে আরো কয়েকটি পরিবার এখানে আশ্রয় নিতে চাচ্ছে। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো চলে গেলে বিদ্যালয়টিতে পুনরায় পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রংপুর অঞ্চলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ হতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাটের ১৭টি উপজেলার ৪৩২টি বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৫০টি বিদ্যালয়। এরমধ্যে চার জেলারই বিভিন্ন উপজেলায় অনেকগুলো বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢল এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে এখন পর্যন্ত ৪৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঠদান বন্ধ আছে। এর মধ্যে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের কারণে বন্ধ। এছাড়াও, নদী গর্ভে বিলীন হবার আগে ৯টি বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে পানি সরে গেলে শিক্ষার পরিবেশ অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবার বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ কার্যক্রম শুরু করা হবে।










