ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযানে আজ বুধবার বরিশাল ও ফরিদপুর যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গতকাল দুপুরে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এ সফরের কথা জানান।

সফরসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আগামীকাল (বুধবার) তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বরিশাল ও ফরিদপুর যাচ্ছেন। বেলা ১১টায় আকাশপথে তিনি বরিশালে যাবেন এবং সেখানে বেলস পার্ক মাঠে দুপুর ১২টায় নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, ‘বেলা ১টায় আকাশপথে বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সেখানে পৌঁছে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। তারপর আবার আকাশপথে ঢাকায় ফেরত আসবেন আমাদের নেতা।’

বরিশাল ও ফরিদপুরে জনসভার মধ্য দিয়ে তারেকের ঢাকার বাইরের প্রচার শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আমীন।

গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেদিন তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ করেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম যান তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন। এরপর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনী সমাবেশ অংশ নেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করেন ২৯ জানুয়ারি। তিনদিনের সেই সফরে তিনি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরেন শনিবার।

সোমবার খুলনা ও যশোরে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান।

প্রচার শুরুর পর বিএনপি চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে মোট ২০টির বেশি জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন।

‘বিএনপি অবিচারের শিকার হয়েছে’: নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে বিএনপি কিছু অবিচারের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমীন। তিনি মনে করেন, ব্যালট পেপারে ধানের শীষের অবস্থান এমন জায়গায় রাখা হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এ বিষয়ে প্রতিকার এবং তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

মাহদী আমীন বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, তারা কোনো না কোনো মতাদর্শের হতে পারে। তাতে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানই সংস্কার নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। এর আগে যাদের সংস্কার নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি, তারা এখন এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে যা অনিবার্য সত্য, সেটা ধারণ করা উচিত। যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন, তারা ইতিহাস বিকৃত করে বয়ান তৈরি করতে চাইলে সেটি অত্যন্ত মর্মাহত করে জাতিকে। সত্য ও ন্যায়সংগত ইতিহাস মানুষের সামনে উপস্থাপন করাই আগামী বাংলাদেশের প্রত্যাশা হওয়া উচিত। ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।’

মাহদী আমীন নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ ও দলীয় সংশ্লিষ্টতা থাকাদের বাদ দেয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসার নিশ্চয়তা শতভাগ—এটি বুঝতে পেরে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে অনুকরণ করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ, বেকার ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড এবং ভিশনের ধারণাগুলো এখন অন্য দলগুলোর ইশতাহারেও দেখা যাচ্ছে। এমনকি নেতাদের উপাধির ক্ষেত্রেও অনুকরণের সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, যেটিকে বিএনপি রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের অংশ হিসেবেই দেখছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিহিংসায় তার বিরুদ্ধে ১৯টি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমীন জানান, বিএনপির ইশতাহার অনেকটাই প্রস্তুত। ৬ ফেব্রুয়ারি তা ঘোষণার পরিকল্পনা আছে।