জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাদের মতে বদলির ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে নিরপেক্ষ পদ্ধতি।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দলটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এছাড়া জামায়াতের প্রতিনিধিরা ইসির কাছে সেনা মোতায়েন ও গণভোটের বিষয়ে স্পষ্টতা চান।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এক মাসও হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, একজন ডিসি (জেলা প্রশাসক) চলে গেলেন। আবার এক সপ্তাহের মধ্যে অনেককে রদবদল করা হয়েছে। এটা যেন কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্যে হচ্ছে।’ তিনি তফসিল ঘোষণার পর লটারির মাধ্যমে ডিসি-এসপি বদলির প্রস্তাব দেন এবং বলেন, ‘ভোটারদের সাহসী করতে হলে প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনাসদস্য মোতায়েন জরুরি।’
তিনি গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একদিনে গণভোট হলে ভোটার বিভ্রান্ত হতে পারে। ভোটারকে আগে থেকেই বুঝতে দিতে হবে—সে ‘হ্যাঁ’ বলবে নাকি ‘না’।’ এছাড়া তিনি প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাসপোর্টকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করার দাবি জানান এবং ভোটার তালিকার ছবির অস্পষ্টতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও নির্বাচনী আচরণবিধিতে তার উল্লেখ না থাকার বিষয়ে ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীরা কীভাবে গণভোট দেবেন, সে বিষয় স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিকল্প হিসেবে পাসপোর্টের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান করার বিষয়ে বলেন তিনি।
এছাড়া নির্বাচনী প্রচারে লাউডস্পিকারের ব্যবহার সীমিত করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, ভোটার তালিকায় ভোটারদের ছবি স্পষ্ট করতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনাসদস্য মোতায়েনের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংলাপে জামায়াতের পক্ষে আরো অংশ নেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও আইনজীবী শিশির মনির।










