বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।’ রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে গতকাল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় কাউন্সিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের এ সংগঠনের অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান।
স্বাস্থ্য খাত ও চিকিৎসকদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী তার দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার বিষয়টি আনতে চাই। তার স্ত্রী একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক। স্বাস্থ্য খাতে তিনি বেশি গুরুত্ব দেবেন। কারণ এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটা বিশাল দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফায় স্বাস্থ্য খাতকে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশে শুধু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা নয়, শুধু ভোটের অধিকার নয়, স্বাস্থ্য আর ভাতসহ সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন চলার সময় আমাদের অনেক চিকিৎসককে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে আহতদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।’
উদাহরণ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে সেখানকার চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের চিকিৎসকদের পার্থক্য কোথায়? তারা বলেছেন, বাংলাদেশী চিকিৎসকরা তাদের সমান তো বটেই. অনেক ক্ষেত্রে ওপরেও। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের সিস্টেমে। শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় সিরাজগঞ্জে একজন চিকিৎসককে ২০ বছর ধরে বদলি করে রাখা হয়েছে। দেশে আমরা পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষের মাধ্যমে একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি। এ সংস্কৃতিটাই আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বর্তমান সরকারপ্রধানের যিনি বিশেষ সহকারী আছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের, তিনি এমন কতগুলো ব্যবস্থা বা আইন দিচ্ছেন যাতে করে এ (ওষুধ) শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমাদের ওষুধ শিল্প পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল, বাইরে রফতানি করছিল। এখন তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) বলছে আমাদেরকে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে, অর্থাৎ এ সরকারের নীতিগুলো এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়গুলো আমাদের তুলে ধরতে হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।










