দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে রেল চলাচল শুরু হয়েছে। তবে কমিউটার ট্রেনের নামে ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্ধিত এ ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতারা। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যাত্রী অধিকার ফোরামের সমন্বয়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘গত বছর পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে গেণ্ডারিয়া অংশে তিনটি পৃথক রেললাইন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এজন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৪ ডিসেম্বর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা ঘোষণা করে তিন মাস এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। কিন্তু প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ আগস্ট এ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে ট্রেনটিকে কমিউটার নাম দিয়ে ভাড়া ১৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ টাকা করা হয়। চলাচলরত বর্তমান ট্রেনকে কমিউটার বলা হলেও আগের ট্রেনের সঙ্গে তার গুণগত পার্থক্য নেই।
তিনি বলেন, কমিউটার ট্রেন হচ্ছে ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিইএমইউ) ট্রেন। যার উভয় দিকে ইঞ্জিনচালিত। এসব ট্রেনের অভ্যন্তরেই ডিজেল থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। ওই বিদ্যুতেই ট্রেন চলে। এটি সাধারণ মেইল ট্রেনের তুলনায় বিভিন্ন দিক থেকে উন্নত। ঢাকা থেকে দেশের চারটি রুটে কমিউটার ট্রেন বর্তমানে চলমান। কিন্তু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলমান ট্রেন কোনো দিক থেকেই আগের মেইল ট্রেন থেকে উন্নত নয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে কিলোমিটারপ্রতি ৩৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা নির্ধারণ করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বর্ধিত হারে তখন ভাড়া দাঁড়ায় ৭ টাকা ৮৪ পয়সা। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া নির্ধারণ করে ১৫ টাকা। আমরা তখনই দাবি করেছিলাম ১৫ টাকা ভাড়া অযৌক্তিক। এটি ১০ টাকা করা হলেও তা হবে ট্রেনের নির্ধারিত হারে বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও বেশি।
রফিউর রাব্বি দাবি করেন, ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীরা মূলত নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত কর্মজীবী, ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। বর্তমান বাজার অর্থনীতির কারণে ট্রেনের এ ভাড়া বৃদ্ধি বহন করা তাদের জন্য দুরূহ। তাই দ্রুত ট্রেনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এটাকে আগের মতো ১৬ জোড়া (১৬ বার নারায়ণগঞ্জ থেকে যাবে, ১৬ বার আসবে) করতে হবে এবং ট্রেনে বগির সংখ্য ন্যূনতম ১০টি করতে হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেনে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক, সুজনের ধীমান সাহা জুয়েল, কমিউনিস্ট পার্টির হাফিজুল ইসলাম, বাসদের নিখিল সাহা।










