বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর শরীরে দুই মাস আগের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি স্যালাইন পুশ করার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকালের এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স শামীমাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী রোগী হানিফ হাওলাদারের (৬০) ছেলে জাকারিয়া হাওলাদার বলেন, সকাল ৭টার দিকে নার্স শামীমা আমার বাবার শরীরে সরকারি স্যালাইন পুশ করেন। দুই-তৃতীয়াংশ স্যালাইন দেয়ার পর আমার ছোট বোন হাসিনা বেগম দেখতে পান যে স্যালাইনটির মেয়াদ নেই। তখন দ্রুত স্যালাইন অপসারণ করা হলেও, বাবার শরীরে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা শুরু হয়। তিনি জানান, এতে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবারের সদস্যরা। 

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, হানিফ হাওলাদার নামে ওই রোগী শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা নিয়েই হাসপাতালে আসেন। উচ্চ রক্তচাপও ছিল তার। এ অবস্থায় নার্স শামীমা স্যালাইনের মেয়াদ না দেখেই তার শরীরে পুশ করেন। তবে পুশ করার পরপর-ই আমরা বিষয়টি জানতে পারি। রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছেন। তারপরেও রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত নার্স শামীমাকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাকে এ বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্টোরে স্যালাইন, ওষুধসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য কোনো মালামাল আছে কি না, সে ব্যাপারেও স্টোর কিপার ও নার্সিং ইনচার্জকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ মার্চ মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আব্দুল্লাহ নামের এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।