জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘পিআর পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতি জনগণ মেনে নেবে না। পিআর পদ্ধতি চালু হলে নির্বাচনী অপরাধ থাকবে না, ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখল হবে না। থাকবে না টাকার খেলা। যাদের প্রয়োজনীয় জনসমর্থন নেই তারাই এ পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। তারা মাস্তানি ও অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান। কিন্তু জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে না।’
গতকাল ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বাষির্কীর এক আয়োজনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আওয়ামী-বাকশালীরা দেশে অপশাসন-দুঃশাসন চালিয়েছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তারা আবার দৃশ্যপটে ফিরে আসার জন্য নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পর এসে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগের মধ্যে দমন-পীড়নের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী-এমপিদের বিচারের ও দ্রুত নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বির্তক চলছে।’
জামায়াতে ইসলামী সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দেয়ার কথা বলছে। অন্যদিকে বিএনপি চায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দাবি সংস্কার শেষ করে গণপরিষদ নির্বাচন।
এ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সে ‘ষড়যন্ত্রের’ কথা তুলে ধরে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘বীর জনতা তাদের সে ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না। যারা নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার চেষ্টা করছেন তাদেরও জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
তাহের বলেন, ‘গতানুগতিক পদ্ধতির নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে প্রায় সব নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনসহ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনই নির্বাচন ছিল না। এসব নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, গণহারে সিল মারা, কেন্দ্র দখল, ডামি নির্বাচন, ব্যালট ছিনতাই, দিনের ভোট রাতে করাসহ ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত এসব ছিল ভুয়া ও নির্বাচনের নামে প্রহসন। অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি তথা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চালু করতে হবে।’










