দেশে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ বাড়ছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু ও ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৬৬ জন, আর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২১৮ জন।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ছয়জনের মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ জনে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জনের। হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৪৭৮ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, উল্লেখিত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগী ছিল ১ হাজার ৩৮৮ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৮ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬ জন।
এদিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২১৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬ হাজার ৩৮৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৩৮৯ জন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন।
মাসভিত্তিক হিসাবে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যায়। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যায়। সেপ্টেম্বরে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। চলতি অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪৪ জন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪। এর আগে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ ও আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।










