মালয়েশিয়ায় লকডাউন চলাকালে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর দেশটির সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া রায়হান কবির দেশে ফিরেছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি।  প্রধানমন্ত্রীসহ আরো যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জনিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে  আল জাজিরার নিয়মিত আয়োজন ‘১০১ ইস্ট’ এর ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডডাউন’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় গত ৩ জুলাই। ওই প্রতিবেদনে লকডাউন চলাকালে সে দেশের সরকারের প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ উঠে আসে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমীকদের নিপিড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেন রায়হান। 

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রায়হানকে মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করে মালয়েশিয়া সরকার। ২৪ জুলাই তিনি গ্রেফতার হন। রায়হানকে গ্রেফতার নিয়ে গণমাধ্যম ও নানা সামাজিক গণমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। গ্রেফতারের পর দুই দফায় ২৭ দিন রিমান্ডে নেয়া হলেও রায়হানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করতে পারেনি দেশটির পুলিশ। পরে ৫ বছরের জন্য মালয়েশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ২১ আগস্ট রাতে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে।

আজ শনিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসায় পৌঁছান রায়হান। তার ফিরে আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

ছেলেকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন মা রাশিদা বেগম। ছেলের গালে মুখে কপালে আদর করে দেন। বুকে জড়িয়ে নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করে ছেলের কাছে জানতে চান মালয়েশিয়ার পুলিশ তাকে নির্যাতন করেছে কিনা। 

রায়হান কবিরের  ছোট বোন মেহেরুন্নেসা বলেন, ভাইকে ফিরে পেয়েছি এটাই সবচেয়ে বড় শান্তির। টাকা পয়সার কোনো প্রয়োজন নেই। বড় ভাই মায়ের বুকে ফিরে এসেছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

রায়হান জনান, সেদেশের প্রবাসী অবৈধ শ্রমীকদের অভয় দিয়ে করোনা পরীক্ষা করানোর ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সেই শ্রমিকদের গ্রেফতারের পর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখাসহ নানা নিপীড়ন চালায়। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় মালোশিয়ান এয়ালাইন্সের একটি উড়োজাহাজে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান রায়হান। এসময় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মকর্তা শরিফুল হাসান খান ও রায়হান কবিরের বাবা মো. শাহ আলম বিমানবন্দরে ছেলেকে রিসিভ করেন।

গ্রেফতারের পর শারিরীক নির্যাতন না করলেও চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রায়হান কবির। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া থেকে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত এক পোশাকেই ছিলেন। কিছুই আনতে পারেননি। বিমানবন্দরে আসার পর প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাকে নতুন জামা পরতে দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা শাহ আলমের ছোট ছেলে রায়হান কবির। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যান তিনি। ২০১৭ সালে কুয়ালামপুর টিএমসি ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কোর্স শেষে ভর্তি হন এমবিএতে। লেখাপড়ার খরচ চালাতে কাজ নেন সেখানকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।