ঈদযাত্রায় মহাসড়কের যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে হাইওয়ে পুলিশ। একই ধরনের তালিকা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাস মালিক সমিতিও। তাতে দেখা গেছে, যানজটপ্রবণ স্থানগুলোর মধ্যে ১৯টি নাম তিনটি তালিকায়ই রয়েছে। মহাসড়কের বিপজ্জনক বাঁকের তথ্যও উঠে এসেছে হাইওয়ে পুলিশের পর্যবেক্ষণে। তাদের হিসাবে দেশের মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক রয়েছে ৮৮৩টি।

হাইওয়ে পুলিশের করা যানজটপ্রবণ স্থানের তালিকায় রয়েছে সাইনবোর্ড, শিমরাইল বাসস্ট্যান্ড, কাঁচপুর ব্রিজ, মদনপুর, মেঘনা টোল প্লাজা, জামালদি, ইলিয়টগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, দাউদকান্দি টোল প্লাজা, গোমতি সেতু, মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড, নিমসার বাজার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, সাভার বাজার, নবীনগর, আরিচা ঘাট, পাটুরিয়া ঘাট, কাঞ্চন ব্রিজ, ভুলতা গাউছিয়া, গোবিন্দগঞ্জ বাজার, পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ভবানীপুর বাজার, বাঘের বাজার, মাওনা চৌরাস্তা, ওয়াপদা মোড়, মাস্টারবাড়ী, ভালুকাবাজার, পোস্তগোলা ব্রিজ, ধলেশ্বরী টোল প্লাজা, পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা, ভাঙ্গা গোল চত্বর, মোকসেদপুর বাসস্ট্যান্ড (পুরাতন), মোকসেদপুর বাসস্ট্যান্ড (নতুন), ভাঙ্গা বাজার, ফরিদপুর-রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, দৌলতদিয়া ঘাট ও মোস্তফাপুর বাস টার্মিনাল। এ তালিকা আরো রয়েছে গোলাকান্দাইল, বস্তুল, নোয়াপাড়া, বরপা, তারাব বিশ্বরোড, রূপসি, ছনপাড়া, পলখান, শিংলাবো, এশিয়ান হাইওয়ে ক্রসিং, বাইপাইল মোড়, চন্দ্রামোড়, গোড়াই ফ্লাইওভারের নিচের এলাকা, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্ত, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম প্রান্ত, কড্ডার মোড়, হাটিকুমরুল, চান্দাইকোনা ও জাহাঙ্গীরাবাদ।

বিআরটিএর তালিকায় যানজটপ্রবণ স্থানগুলো হলো মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, কাকলী ও বনানী, এয়ারপোর্ট, গাবতলী বাস টার্মিনাল, পোস্তগোলা ব্রিজ, বাবু বাহার ব্রিজ, বসিলা ব্রিজ, ফকিরাপুল, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, কল্যাণপুর, মানিক মিয়া এভিনিউ ও ফার্মগেট, সাইন্সল্যাব, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল, রামপুরা ব্রিজ, সাইনবোর্ড, আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, এশিয়ান হাইওয়ে ৩০০ ফিট ও হেমায়েতপুর। এ তালিকায় আরো আছে সাভার, নবীনগর, আরিচা ঘাট, স্টেশন রোড, এরশাদ নগর, ভোগড়া বাইপাস, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, বাইপাইল, চন্দ্রা, চান্দিনা, এলেঙ্গা, বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই প্রান্ত, কাড্ডার মোড়, মদনপুর, শিমরাইল বাসস্ট্যান্ড, কাঁচপুর ব্রিজ, কাঞ্চন ব্রিজ, মেঘনা টোল প্লাজা, ভুলতা গাউছিয়া মোড়, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকা অংশ, এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকা, পদ্মা সেতুসংলগ্ন শরীয়তপুর, এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুর অংশ এবং এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর অংশ।

বাস মালিক সমিতির তালিকায় রয়েছে মদনপুর, কাঁচপুর, সুলতানা কামাল ব্রিজ, চন্দ্রা মোড়, এলেঙ্গা, চান্দাইকোনা, জাহাঙ্গীরাবাদ, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, কাকলী মোড়, বনানী, খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড, কাঞ্চন ব্রিজ, এয়ারপোর্ট, জসিম উদ্দিন মোড়, আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড, এরশাদ নগর, ভোগরা বাইপাস ও জয়দেবপুর চৌরাস্তা। এ তালিকায় আরো রয়েছে আব্দুল্লাহপুর, বাইপাইল, গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, হেমায়েতপুর বাজার, নবীনগর, আরিচা ঘাট, ঢাকা রোড বাস টার্মিনাল, সাইনবোর্ড, শিমরাইল, মেঘনা টোল প্লাজা, পোস্তগোলা ব্রিজ, বসিলা ব্রিজ, ফকিরাপুল, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, কল্যাণপুর, মানিক মিয়া এভিনিউ, সাইন্সল্যাব, গুলিস্তান, বাবুবাজার ব্রিজ ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

১৯টি যানজটপ্রবণ এলাকা রয়েছে, যেগুলোর নাম তিন তালিকায়ই আছে। এগুলো হলো শিমরাইল, কাঁচপুর ব্রিজ, মদনপুর, মেঘনা টোল প্লাজা, হেমায়েতপুর, সাভার বাজার, নবীনগর, পাটুরিয়া ঘাট, কাঞ্চন ব্রিজ, ভুলতা, বাইপাইল, চন্দ্রা, এলেঙ্গা, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম, কড্ডার মোড়, ধলেশ্বরী টোল প্লাজা, পদ্মা সেতু টোল প্লাজা ও ভাঙ্গা গোলচত্বর।

মহাসড়কের বিপজ্জনক বাঁকের তথ্যও উঠে এসেছে হাইওয়ে পুলিশের পর্যবেক্ষণে। তাদের হিসেবে দেশের মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক রয়েছে ৮৮৩টি। এসব বাঁকের ৩০ শতাংশ রয়েছে ট্রাফিক মাদারীপুর  অঞ্চলের মহাসড়কে। এ অঞ্চলের মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, বরিশাল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাগেরহাট, মাগুরা, যশোর ও নড়াইলে ২৬৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪৮টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে বগুড়া অঞ্চলে। এছাড়া কুমিল্লা অঞ্চলে ১৮১টি, সিলেটে ১২৬টি ও গাজীপুর অঞ্চলের মহাসড়কে বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে ৬৪টি।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোয় ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। বডিওয়ার্ন ক্যামেরাও আছে। সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো হয়েছে। লুকিয়ে থাকা বাঁকগুলোও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এসব বাঁকে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চালকদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্পিডি গান ব্যবহার করা হচ্ছে।’