কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে লার্নিং সেন্টারে (শিক্ষা কেন্দ্র) চাকরি হারানো শিক্ষকরা ফের আন্দোলনে নেমেছেন। চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। সকাল ৭টায় শুরু হওয়া অবরোধের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। আশ্রয়শিবিরে থাকা প্রায় চার হাজার শিক্ষা কেন্দ্রে আড়াই লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরকে পাঠদান করা হয়। সেখানে ছাঁটাইয়ের মুখে পড়া বাংলাদেশী শিক্ষকরা কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের আন্দোলনের মুখে গত ৪ জুন আশ্রয়শিবিরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে ৩ জুলাই পুনরায় শুরু হয়। তখন চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহালের জন্য এক মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে নির্ধারিত সময়ে পুনর্বহাল না হওয়ায় পুনরায় তারা আন্দোলন শুরু করেছেন।
শিক্ষকরা বলছেন, অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা না হলে আন্দোলন আরো ব্যাপক আকার ধারণ করবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ ও অনশন চালিয়ে যাবেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। তহবিল সংকটের অজুহাতে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাকরিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়ে বন্ধ থাকা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছিল। এখন আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না। তাই দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ থেকে যাব না।
অবরোধ ও অনশনে অংশ নেয়া চাকরিচ্যুত শিক্ষক কায়সার উদ্দিন বলেন, ‘বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি। তাই শেষ উপায় হিসেবে আমরা সড়ক অবরোধ ও আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছি। এবার হয় চাকরি ফেরত দিতে হবে, না হয় খালি ঘোষণায় বাড়ি ফিরে যাব না।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তহবিল সংকটের কারণে আশ্রয়শিবিরের ১ হাজার ১৭৯ জন স্থানীয় (বাংলাদেশী) শিক্ষকের চাকরির চুক্তি শেষ হয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে আশ্রয়শিবিরের সব শিক্ষা কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ৩ জুলাই শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে বন্ধ থাকা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। এক মাসের মধ্যে ইউনিসেফ তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তবে ১ মাস ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও তহবিল সংগ্রহ হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া শিক্ষকদের বিষয়টি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাধ্যমে আশ্রয়শিবিরে ১৫০টি শিক্ষা কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে চাকরি হারানো শিক্ষকদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। ৭ আগস্ট আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর পরও রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর কোনো কারণ দেখছি না।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘সড়ক অবরোধ করলে জনদুর্ভোগ বাড়বে, শান্তিপূর্ণ উপায়েও আন্দোলন করা যায়। ইউনিসেফের তহবিল সংকট রয়েছে। এটা শুধু ইউনিসেফের নয়, যুক্তরাষ্ট্র ফান্ড বন্ধ করার পর সব ক্ষেত্রে তহবিল সংকট চলছে। ইউনিসেফ চেষ্টা করছে আন্দোলনরত শিক্ষকদের জন্য কিছু করতে। কিন্তু তহবিল সংগ্রহ করতে না পারলে কী করার আছে।’










