বছর ২৫ আগে ময়ূর নদে নৌকা চলত। তখন জেলে পরিবারগুলোর জীবিকার আধার ছিল এ নদ। তাছাড়া দৈনন্দিন কাজেও এ নদের পানি ব্যবহার হতো। অথচ বর্তমানে দখল ও দূষণে নদের পানি আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। খুলনা নগরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা নদটি যেমন হারিয়েছে জৌলুস, তেমনি হারিয়েছে তার নাব্য। দূষণ ও দখলে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ নদটি প্রতিনিয়তই সংকুচিত হচ্ছে। আগে রূপসা নদীর সঙ্গে ময়ূর নদের সরাসরি সংযোগ ছিল। এখন স্লুইসগেটের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রিত হয়। স্লুইসগেট বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকায় পানিপ্রবাহও বন্ধ হয়ে গেছে।
গত বছর খুলনা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ময়ূর নদসহ ২২টি খালে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালু হলেও মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এসব নদী ও খালের দখল হয়ে যাওয়া অংশ উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। অভিযানে নদের দুইপাড়ের অবৈধ কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা স্থাপনা ক্রেন ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রমে গঠিত চারটি কমিটি ময়ূর নদ ও ২২টি খালে জরিপ চালিয়ে ৪৬০ জন দখলদারের তালিকা করে। তবে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে তারাও এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখন প্রকাশ্যেই ভরাট হচ্ছে ময়ূর নদ।
এরপর ২০১৬ সালে ময়ূর নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কেসিসি। কিন্তু তাতেও নদটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
খুলনার পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক কুদরৎ-ই-খুদা বলেন, নদটি অনেক আগেই নাব্য হারিয়েছে। দূষণে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদের পাড়ে দখলদারদের দৌরাত্ম্য চলছে। কোথাও বেড়া দিয়ে, কোথাও মাটির বাঁধ দিয়ে নদের জায়গা দখল করা হয়েছে। কয়েক বছর আগের প্রকল্পে নদের পলি ও ময়লা অপসারণ করার কথা থাকলেও ড্রেজারের মাধ্যমে শুধু পানি অপসারণ করা হয়। যে কারণে এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, পানিতে ডিওর মাত্রা প্রতি লিটারে ৬ মিলিগ্রামের নিচে নেমে গেলে ছোট মাছ বাঁচে না। ময়ূর নদে বছরের বেশির ভাগ সময়ই ডিও থাকে শূন্যের কোঠায়।
ময়ূর নদকে বাঁচাতে দখলদারদের উচ্ছেদ, গল্লামারী বাজারের ময়লা-আবর্জনা বর্জ্য নদে ফেলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা চালু করতে হবে।
খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ময়ূর নদ থেকে আমরা দখলদারদের উচ্ছেদ করেছি। এখন বাকি কাজ জেলা প্রশাসনের।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খননের জন্য আমরা প্রস্তাবনা দিয়েছি। নতুন করে যদি নদটি দখল হয়, তবে তার তালিকা করে আবারো উচ্ছেদ করা হবে।










