দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট। গুরুত্ব বিবেচনায় বিআইডব্লিউটিসির চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। নানা জটিলতার কারণে আট বছরেও ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ ৮ বছরে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে শুধু ফাইল চালাচালিই হয়েছে। ঘাট এলাকায় দৃশ্যমান কোনো কাজই হয়নি। এ আট বছরে প্রতি বছরই পদ্মার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির সময় ঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। কোনো মতে জোড়াতালি দিয়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয় আর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে দেয়া হয় ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আশ্বাস। এবারো একই কথা বলা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী নভেম্বরেই কাজ শুরু হবে। কিন্তু প্রশ্নের জবাবে তারাই আবার বলছে, নকশা রয়েছে বুয়েটে, অনুমোদন হয়নি জমি অধিগ্রহণেরও।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, পদ্মার তীব্র ভাঙনে ২০১৪ সালে দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ঘাট ভেঙে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময়ে ঘাটটি দুটিকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে পাউবো ও বিআইডব্লিউটিএকে অনুরোধ করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া প্রান্তে লঞ্চঘাট থেকে ৭ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার ও মানিকগঞ্জের চারটি ঘাট এলাকায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী কাজসহ ৭ কিলোমিটার এলাকার জন্য ৬৩৪ কোটি টাকার একটি বিল একনেকে জমা দেয়।

২০১৬ সালে বিলটি পাসও হয়। কিন্তু দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে কাজটি শুরু করা হয়নি। পরবর্তী বছর ২০১৭ সালে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার সাতটি ও পাটুরিয়ার চারটি ঘাটসহ মোট ১১টি ঘাটের তিনটি করে স্তর হাই ওয়াটার, মিড ওয়াটার ও লো ওয়াটার অর্থাৎ ৩৩টি ঘাট করার জন্য নকশায় পরিবর্তন আনতে বলে। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ হাজার ৩৫১ কোটি টাকার একটি বিল পুনরায় জমা দেয়। যে কারণে ওই নকশার যাচাই-বাছাই করতে ফাইলটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) পাঠায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। বুয়েটেই প্রায় পাঁচ বছর চলছে যাচাই-বাছাই।

এদিকে প্রতি বছরই ঘাট আধুনিকায়নের আশ্বাসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার বাসিন্দারা। তাছাড়া পদ্মার ভাঙনের কারণে এ নৌরুটের দৌলতদিয়া অংশের সাতটি ঘাটের মধ্যে চারটিই বন্ধ। বাকি তিনটি দিয়ে চলছে পারাপার।

গতকাল সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে কথা হয় সিদ্দিক কাজীর পাড়া এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আলীর সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সর্বনাশা পদ্মায় আমাদের বসতবাড়ি তিনবার ভেঙেছে। যেটুকু ছিল সেটুকু বিক্রি করে এখানে চার শতাংশ জমি কিনে ঘর করেছি। আমরা শুনেছি সরকার এখানে ঘাটের স্থায়ী কাজ করবে। স্থায়ী কাজ করলে আমার শেষ সম্বল এ জমিটুকু বেঁচে যায়।

টুকটুকি বেগম নামে এক বৃদ্ধা জানান, একসময় ঘাটটি ছিল জমজমাট। নদীভাঙনে এ ঘাট দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। 

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা সেক্টরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় ভাঙন অব্যাহত আছে। ভাঙন রোধে আমরা জিও ব্যাগ ফেলে যাচ্ছি। তাছাড়া দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পটি ১ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিল জমা দেয়া হয়েছে। নকশার কাজও প্রায় শেষ। দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই নকশা হাতে পাওয়া যাবে। জমি অধিগ্রহণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে ঘাটের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে। সেখানে বিআইডব্লিউটিএ বিআইডব্লিউটিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে কাজ করবে।