রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়ায় বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, ‘বিস্মিত হলেও জাতীয় স্বার্থে আমরা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই নিতে চাই।’ রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘আপনারা জানেন, জামায়াতের আমির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন—রোজার আগে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা অধিকতর উপযুক্ত হবে। আমরা মনে করি, প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন, তা সেই সময়োপযোগী প্রস্তাবেরই প্রতিফলন। আমরা এ ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।’

বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে সরকারপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে থাকেন। এমনকি নির্বাচন কমিশনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আমরা আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন সেই গণতান্ত্রিক ও পরম্পরাগত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করবেন।’

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তাহের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ২৮ দফার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এ ঘোষণাপত্র একটি অপূর্ণাঙ্গ বিবৃতি। এতে গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। এটিকে কেন্দ্র করে যে প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা ছিল, তা পূরণ না হওয়ায় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে জনগণের মধ্যে। ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের রূপরেখা কী হবে, তাও জাতির কাছে অস্পষ্ট। এমতাবস্থায় আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অনতিবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্রে জনআকাঙ্ক্ষার অপরিহার্য বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’

সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, নির্বাচনের উপযুক্ত যে পরিবেশ থাকার কথা ছিল, তা সরকার এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। এজন্য প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত টাইমলাইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের আকাঙ্ক্ষা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন দ্রুত সম্পন্ন করে অধ্যাদেশ, এলএফও বা গণভোটের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রদান করা। তা না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বিফলে যাবে। তাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।’