আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে শীর্ষ ২০ এবং শীর্ষ ১০টি ডিজিটাল অর্থনীতির দেশের তালিকায় জায়গা করে নেবে বলে আশা ব্যক্ত করছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ডিজিটাল অর্থনীতির একটি হতে চাই এবং পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিটিআরসি ভবনের প্রধান সম্মেলন কক্ষে আজ সকালে আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতের সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক গবেষণার সূত্র উল্লেখ করে আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, বিগত ২০ বছরের আন্তর্জাতিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেকোনো দেশে ব্রডব্যান্ড ও ডেটার বিস্তার প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে সেই দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ থেকে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ডেটা বিস্তারের হার ১০-৫০ শতাংশের ঘরে রয়েছে, যা ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে আরো বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মোবাইল গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করলেও সেবার মান, ডিজিটাল প্রস্তুতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং সহজলভ্যতার সূচকে এখনো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে অতীতকে পেছনে ফেলে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এক নতুন লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, টেলিকম খাতে করভার ৫১-৫৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। এটি কমানোর উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে ফাইবার নেটওয়ার্ক, ফাইভজি, নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি ও ডিজিটাল বৈষম্য কমানো সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরো বলেন, তরুণদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ডিং, গ্র্যাজুয়েশন মডেল ও স্কেলআপ বিনিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা হবে। তৈরি পোশাক খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রযুক্তি হাব হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত ও তরুণদের সমন্বিত সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান অতিথির আলোচনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন শুধু যোগাযোগ নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জনসেবার মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, আইসিটি খাতকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এআই, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, বিপিও, ডাটা সেন্টার ও সাইবার নিরাপত্তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো যেমন ফাইবার নেটওয়ার্ক, ফাইভজি, ক্লাউড ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থা জাতীয় অর্থনীতির সহনশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল সেবার বিস্তার জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফকির মাহবুব আনাম আরো বলেন, ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট’ এবং এআই-ভিত্তিক জাতীয় ডেটাবেইজ গঠনের মাধ্যমে স্মার্ট গভর্ন্যান্স চালু করা হবে। স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য ধাপে ধাপে অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব) বলেন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার মূল চালিকাশক্তি। নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সেটিকে উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উদ্ভাবনের প্রথম শর্ত হলো সমস্যাকে চিহ্নিত করা। একটি বাস্তব সমস্যার সমাধানই ভবিষ্যতের বড় উদ্যোগ ও সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি।










