চারদিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছেড়ে যায়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর ১১তম এ সফরে ড. ইউনূস রাজা কিং চার্লসের হারমোনি অ্যাওয়ার্ড নেবেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত না করলেও গুঞ্জন রয়েছে সফরে বৈঠক হতে পারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। সব মিলিয়ে সফরটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য সফরে মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় আট লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করেন, যারা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। তাছাড়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্যও দেশটি উচ্চশিক্ষার একটি পছন্দের গন্তব্য হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।
যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ৪ জুন এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস এ বছরের সম্মানজনক “কিং চার্লস থ্রি হারমোনি অ্যাওয়ার্ড”-এর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনীত করেছেন। ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে রাজা চার্লসের কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টা এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।’
আশা প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সফরকালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট ডেভিড ল্যামি, কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও থিংক ট্যাংকের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। সব মিলিয়ে এ সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো গভীর ও সুসংহত করবে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও আরো শক্তিশালী করবে। দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সফরটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে অবশ্য সংশয় রয়েছে জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তা কতটা ভূমিকা রাখবে সেটা বলা যাচ্ছে না। কারণ স্বল্পকালীন একটা সরকার। এ সময়ে বিনিয়োগ নিয়ে কথাবার্তা হয়তো হবে, কিন্তু বিনিয়োগ হবে—সে বিষয়ে আমি খুব আশাবাদী না। আর এখন দেশী বিনিয়োগই নেই, আর তাদের ওপর ভর করে বিদেশী বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা খুব দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের আসন্ন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সফরটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।’
এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে কিনা সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যাদের সভা বা বৈঠক হতে পারে বা অডিয়েন্স হতে পারে আমি বিস্তারিত আপনাদের জানিয়েছি।’










