মৌলভীবাজারের বড়লেখায় হাকালুকি হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) মালাম বিলের খাসজমি থেকে হিজল-করচসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার ঘটনায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন পরিবেশ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। মামলায় বড়লেখা উপজেলার মনাদি গ্রামের জয়নাল উদ্দিন, কাজীরবন্দের মক্তদির আলী, মশাঈদ আলী, রিয়াজ আলী, জয়নাল উদ্দিন, কালা মিয়া ও সুরুজ আলীকে আসামির করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের প্রায় ১২ বিঘা খাসজমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিপুল পরিমাণ গাছ অবৈধভাবে ফেলে অভিযুক্তরা। এতে বিলের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার ক্ষতিসাধন করায় গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন হাকালুকি জাগরণী ইসিএ ব্যবস্থাপনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য ও মালাম বিল বনায়ন এলাকার পাহারাদার আবদুল মনাফ। পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বড়লেখা থানায় মামলাটি করা হয়।

বড়লেখা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা বলেন, মামলার তদন্তে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সরকার ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাকালুকি হাওরের ১৮ হাজার ৩৮৩ হেক্টর এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া-ইসিএ) ঘোষণা করে। ইসিএ এলাকা হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের

জন্য মৎস্য ও জলজ প্রাণী এবং পাখির বসবাসের উপযোগী রাখার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর হাকালুকি হাওরে বনায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। এ এলাকায় অবক্ষয়মূলক যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।