সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল আবেদন) করেছেন দুই শিক্ষার্থী। গতকাল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই লিভ টু আপিল করা হয়। আগামী রোববার সকালে এর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।

দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা লিভ টু আপিল করেছি। আগামী রোববার (২১ জুলাই) এটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোটা বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানি করতে সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টের কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে আমরা যে সিভিল পিটিশন ফাইল করেছি, সেটির শুনানি রোববার হবে।’

উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, নবম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণী) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণী) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদগুলোয় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ এবং জেলা কোটা ১০, উপজাতি ৫ ও প্রতিবন্ধীদের ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট বিভাগ। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট বিভাগ। ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্র পক্ষ। ১০ জুন কোটা পুনর্বহাল নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্র পক্ষ। গত ১০ জুলাই এই আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।