দীর্ঘদিন ধরে বয়োবৃদ্ধ বাবা আবুল কালাম পাটোয়ারী অসুস্থ বিছানায় পড়ে আছেন। রাজমিস্ত্রি ভাই খোরশেদ আলমের কষ্টার্জিত টাকায় চলত ছোটভাই মো. আল-আমীনের (২০) পড়াশোনা। ঘুস ছাড়া সরকারি চাকরি তার কাছে স্বপ্নের মত। তারপরও পুলিশে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখে সাহস করে আবেদন করেন তিনি। পরে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে অনেকটাই আশ্চর্য হয়ে পড়ে আল-আমীন ও তার পরিবার। শুধু আল-আমীন নয়, কোনো প্রকার হয়রানি, সুপারিশ এবং ঘুস ছাড়া ট্রেইনি রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি হয়েছে লক্ষ্মীপুরের ৪৪ জনের। এমন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলছেন অনেকেই।
শনিবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে 'ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৪ এর ফলাফল প্রকাশ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন' অনুষ্ঠানে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হিসেবে ৪৪ জনের নাম ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার। তালিকার ৪০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। যাদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আল-আমীন ও তার বড়-ভাই (রাজমিস্ত্রি) মো. খোরশেদ আলমও।
সদ্য বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) হিসেবে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত আল-আমীন তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, অবিশ্বাস হলেও এটা সত্য যে মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলাম। সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে আজ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হলাম। সততার সঙ্গে দেশের সেবা করারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আল-আমীন।
ছোট ভাইয়ের চাকরি পাওয়া খবরে খোরশেদ বলেন, ২০১১-১২ সালে পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়েছি। নিজে পুলিশে যোগদান করেননি। তবে ছোট ভাইয়ের পুলিশের চাকরি আমাকে সার্থক করছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ পুলিশ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাত্র ১২০টাকায় চাকরি দিচ্ছে। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশে ১ হাজার ৭৪৩ জন আবেদন করছে কনস্টেবল পদের জন্য। পরবর্তীকালে মাঠে যাচাই-বাছাইয়ের ৩৮৪জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১০০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সর্বশেষ ৯৯জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে শূন্য পদে ৪৪ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ৪ জন নারী। এ নিয়োগ সুপারিশ ও তদবির ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) খন্দকার আশফাকুজ্জামান (বিপিএম), নোয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) বিজয়া সেন, লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) হাসান মোস্তফা স্বপনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যরা।










