খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় তীব্র যানজট লেগেই আছে। খুলনা-সাতক্ষীরা রুটের বাস টার্মিনালে আগমন ও বহির্গমনের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

টার্মিনালের সামনের সড়কে এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখার কারণে যানজট আরো প্রকট হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, টেকেরহাট, পিরোজপুর ও বরিশাল রুটের বিভিন্ন বাস টার্মিনালের ভেতর থেকে বেরিয়ে সোনাডাঙ্গা থানার সামনের সড়কের দুই পাশে লম্বা সময় ধরে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ হকার ও দখলদাররা ফুটপাত দখল করায় অন্তহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরবাসী।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, শিগগিরই অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ বিষয়ে খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতি ও খুলনা আন্তঃজেলা মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস বলেন, বাস টার্মিনালে আগমন ও বহির্গমনের জন্য টার্মিনালসংলগ্ন যেসব সড়ক রয়েছে, সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ-পাইকগাছা রুটে যাওয়ার জন্য টার্মিনালসংলগ্ন এমএ বারী লিংক রোডটি দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। এছাড়া সোনাডাঙ্গা নতুন সড়কের অবস্থাও খারাপ। ফলে বিভিন্ন রুটের পরিবহন ঠিকমতো টার্মিনালে আসা-যাওয়া করতে পারছে না। পরিবহনগুলো বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর রাখতে হচ্ছে। ফলে বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় যানজট নিরসনে বাসস্ট্যান্ডের সড়ক নির্মাণ, চাতাল উঁচুকরণ, টার্মিনালের প্লাটফর্ম, পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণ, বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী পরিবহন পৃথকভাবে টার্মিনালে আগমন ও বহির্গমনের পথ নির্মাণে কাজ শুরু হয়েছে।