আয়নাঘর পরিদর্শনে গেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় ও বিদেশী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে 'আয়নাঘর' নামে পরিচিত যৌথবাহিনীর বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এ বিষয়ে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে প্রেস ব্রিফিং করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আয়নাঘর পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আজ আয়নাঘর পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন। পোস্ট অনুসারে, আয়নাঘর পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনার শাসনামলে আট বছর আটক থাকা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। উত্তরায় র‍্যাব ব্যাটালিয়ন-১ প্রাঙ্গণে অবস্থিত ছোট্ট একটি আটককেন্দ্রের সামনেও যান তিনি। গোপন এই কারাগারটি ছিল একটি আয়নাঘর, যেখানে তাকে ৮ বছর আটকে রাখা হয়। আজ তিনি তার দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা প্রধান উপদেষ্টার কাছে বর্ণনা করেন।

aynaghor 4

আয়নাঘর পরিদর্শনে গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। ছবিঃ ফেসবুক

প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানান, আজ প্রধান উপদেষ্টা রাজধানীর তিনটি এলাকায় র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের টর্চারসেল (আয়নাঘর নামে পরিচিত) পরিদর্শন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আয়নাঘরেই বন্দি ছিলেন অধ্যাপক মোবাশার হাসান, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, মাইকেল চাকমা ও মীর আহমদ বিন কাসেমসহ অনেকে।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে 'বিশেষ' স্থানে রাখা হতো। এ নিয়ে সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এসব স্থান 'আয়নাঘর' নামে প্রকাশ্যে আসে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে আয়নাঘরের ভয়াবহতা।