নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় দুই আসামি স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও বাদলকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়ানের একটি আভিযানিক দল।

গতকাল রবিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেলোয়ারকে দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে দেলোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ ঘটনার প্রধান আসামি নুর হোসেন ওরফে বাদলকে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকা থেকে রাতেই গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলার অন্যতম আসামি দেলোয়ার নেয়াখালী থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে একটি বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগরঞ্জের শিমরাইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। র‌্যাব সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ও যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। এক পর্যায়ে একটি বাস থামিয়ে তল্লাশি করে দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার বাহিনীর সদস্য বাদলকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এদিকে এই মামলার অন্যান্য আসামিদের আরো দুজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন।

নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামি দেলোয়ার ও বাদল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া দেলোয়ার বাহিনী ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত রয়েছে। এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে তারা পরিচিত। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়ারখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার একলাশপুর ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও আবদুর রহিমসহ পাঁচ তরুণ। ঘটনার ৩২ দিন পর গত ৪ অক্টোবর (রবিবার) দুপুরে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়। 

এ ঘটনায় রবিবার রাতেই নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদি হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- বাদল, মো. রহিম, আবুল কালাম, ইস্রাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্যা। তারা সবাই বেগমগঞ্জের বাসিন্দা।

১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, নির্যাতনকারীরা ওই গৃহবধূর পোশাক কেড়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে তাকে কিছু বলতে থাকে। ওই নারী নিজেকে রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং হামলাকারীদের ‘বাবা’ বলেও ডাকেন। এক পর্যায়ে তাদের পায়েও ধরেন। কিন্তু তারা ভিডিও ধারণ বন্ধ করেনি। বরং হামলাকারীদের একজন তার মুখমণ্ডলে লাথি মারে ও পা দিয়ে মুখসহ শরীর মাড়িয়ে দেয়। এরপর একটা লাঠি দিয়ে মাঝে মাঝেই আঘাত করতে থাকে। এ সময় ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে উল্লাস প্রকাশ করে ‘ফেসবুক’ ‘ফেসবুক’ বলে চিৎকার করেন তাদের আরেকজন।