টানা বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেলের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্রায়াল রান সম্পন্ন করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। গতকাল সন্ধ্যায় টানেলের দুই প্রান্তের ফ্লাডগেট বন্ধ করে পরীক্ষা চালানো হয়। বৃষ্টিতে পানির স্তর বাড়লে টানেলের নিরাপত্তায় বিশেষ এ ট্রায়াল চালিয়েছে টানেল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রতি মাসের ২০-২৫ তারিখের মধ্যে টানেলের সবগুলো নিরাপত্তা অনুষঙ্গের ট্রায়াল দেয়া হয়। তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিগত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকি এড়াতে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টার মধ্যে দুটির টিউবের উভয় প্রান্তের চারটি ফ্লাড গেট বন্ধ করে পরীক্ষা করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে টানেলের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকার ডেকোরোটিভ বোর্ডে ধাক্কা দেয়। ওই সময়ে টানেলের ভেতরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও ১০ মিনিটের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে টানেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত প্রাইভেটকারটি জব্দ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে টানেল কর্তৃপক্ষ।

টানেল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি টিউব বন্ধ করে টিউবটির উভয় প্রান্তের ফ্লাড গেট বন্ধ করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এরপর অপর টিউবের পরীক্ষা সম্পন্ন করে টানা বৃষ্টিপাতে সমুদ্র তীরবর্তী কর্ণফুলী নদীর মোহনা এলাকার টানেলকে জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করতে এ পরীক্ষা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী টানেল সাইট অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টানেল বিশেষায়িত অবকাঠামো হওয়ায় প্রতি মাসেই রুটিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ট্রায়াল রান করা হয়। তবে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা, জলোচ্ছাসের মতো ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে টানেলকে সুরক্ষায় রাখতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্লাড গেট ট্রায়াল রান করা হয়েছে। ওই সময়ে টানেলের একটি টিউবে সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।’

গতকাল রাতে টানেলের অভ্যন্তরে দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টানেলে সবসময় যানবাহনই চলাচল করে। ফলে নিয়মিত ছোটখাট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই পারে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মর্কাণ্ড থেকে টানেলকে রক্ষা করে। দুর্ঘটনার কারণে টানেল বন্ধ রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলটির উদ্বোধন করা হয়। এর পরদিন সকাল থেকে যান চলাচলের জন্য এটি খুলে দেয়া হয়। পরের বছর ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১২ ঘণ্টার জন্য যান চলাচল স্থগিত রেখে টানেলের চারটি ফ্লাড গেটের সবগুলো বন্ধ রাখা হয়। মূলত বন্যা বা জলোচ্ছাসের পানি টানেলের অভ্যন্তরে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করতে বিশেষভাবে তৈরি অটোমেটিক ফ্লাড গেট প্রযুক্তি টানেলে ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।