রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পারাপারে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট। এ রুট দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়। বর্তমানে বড় তিনটি সমস্যার কারণে এ নৌযান পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি সংকট ও নাব্য সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে কুয়াশার বিড়ম্বনা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ রুটের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া অংশে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ছয়টি ঘাট থাকলেও বর্তমানে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ায় ঘাটের কাছে পন্টুন উঁচু হওয়ার কারণে ১, ২ ও ৬ নম্বর ঘাট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বাকি ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট সচল থাকলেও পন্টুনের তুলনায় অ্যাপ্রোচ সড়ক উঁচু হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই পণ্যবোঝাই ট্রাক উল্টে বন্ধ থাকছে ঘাট।

রুটে চলাচলকারী ১৮টি ফেরির মধ্যে প্রায়ই তিন-চারটি ফেরি বিকল থাকছে। এছাড়া পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ায় নদীপথের চ্যানেল সরু হয়ে পড়েছে। রয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। যে কারণে ফেরিগুলোকে খুব সাবধানে পরিচালনা করতে হচ্ছে। নতুন করে সংকট বাড়াচ্ছে কুয়াশা।

গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে সোয়া ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। সকাল ৮টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। এ সময় যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে মাঝনদীতে আটকা পড়ে তিনটি ফেরি। পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে কুয়াশার তীব্রতা কমলে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘাট সংকট, ফেরি সংকট ও নাব্য সংকটের কারণে সব সময়ই ঘাট এলাকায় লেগে থাকছে যানবাহনের লম্বা সারি। শনিবার বিকালেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুল পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকায় আটকে ছিল অন্তত ২০০ পণ্যবাহী ট্রাক। অন্যদিকে ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার পেছনে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আরো অন্তত ১০০ পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় আটকে ছিল।

নদীর নাব্য সংকট ও ঘাট সমস্যার ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, এ বছর হঠাৎ করে দ্রুতই পদ্মার পানি কমে গেছে। এছাড়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। নাব্য সংকট দূর করতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ খননকাজ অব্যাহত রেখেছে। দ্রুতই ৫ নম্বর ঘাটটি সংস্কার করা হবে। নদীভাঙনে দৌলতদিয়ার ঘাটগুলো ভেঙে যাওয়ায় যথাযথ টার্নিংসহ অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করার কাজে বেশ সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি জানান।