নাটোরের লালপুরে অসুস্থ গবাদি পশুর জবাই করা মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। মাংস খেয়ে আক্রান্ত দুলাল হোসেন নামে একজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জবাই করা মাংস নাড়াচাড়া ও খাওয়ায় আরো নয়জন আক্রান্ত হয়েছেন।

গতকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি চিকিৎসক দল উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামে গিয়ে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসক দল বলেন, জরুরিভাবে ঢাকা থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞরা ডা. রায়হানের নেতৃত্বে আজ রওনা দেবেন। তারা এসে ওয়ালিয়ার দেলুয়া গ্রামের রোগীরা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে নিশ্চিত করবেন। এর আগে রোগীদের অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ওয়ালিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক শারমিন আক্তার তানিয়া বলেন, গত ৭ জুলাই রুইগাড়ি গ্রামের আইয়ুব সরদারের ছেলে দুলাল হোসেন (৫৫) অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে ক্ষত নিয়ে ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য আসেন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তে মস্তিষ্কে ক্ষতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহে একই গ্রামের চিকিৎসা নিচ্ছেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫) ও ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২১), মহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৫), মো. ওমর আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৪০) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০), আরজেদ প্রাংয়ের ছেলে আফতাব আলী (৫০), মৃত দুলাল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩০), রূপচান্দ আলীর ছেলে মোহন আলী (৪০) এবং নুরুজ্জামানের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৩২)। এদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম ও আফতাব আলী আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।