ছাত্র আন্দোলনের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না দেশটি। এমন দাবি করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি জটিল পরিস্থিতিতে আমাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরা সেটি করেছি। এরপর এখন তিনি কী করবেন সেটি নিয়ে আমার কথা বলার মতো উপযুক্ত সময় এটি নয়। তার পরিকল্পনা কী, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। তিনি কী করবেন, তাকেই ঠিক করতে হবে।’ একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য উঠে আসে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিবেশ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘ভারতের কাছে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থই প্রধান বিবেচ্য। ভারতের আশা, কালক্ষেপণ না করে অতি দ্রুত এ প্রতিবেশী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। এখনো সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন একটি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা জানি ভারতের জনগণ বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া বাংলাদেশ তো বটেই অঞ্চলের সবার জন্যও মঙ্গল।’

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের রক্ষায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অনেকগুলো গ্রুপ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অবস্থা নিয়ে আমরা বারবার খোঁজ করছি। যদিও কতজন নিহত, আহত, আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে হিসাব আমাদের কাছে নেই। নাগরিকদের রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। স্বাভাবিকভাবেই অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন থাকব। আমাদের আশা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সেটি হওয়া দুই দেশ ও এ অঞ্চলের স্বার্থে জরুরি।’