বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আগের তুলনায় আরো ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গেও বাংলাদেশের এই সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে সরকার। দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ইউএস ট্রেড শো ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহাদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমেরিকার মানুষ যে পোশাক পরেন, তার উল্লেখযোগ্য অংশই বাংলাদেশে তৈরি। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আরো বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে দেশটি থেকে আমদানিও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার।

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অন্যতম সমস্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ। এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রসঙ্গে মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা যাতে আরও বেশি বৃত্তি নিয়ে সেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সে বিষয়েও দুই দেশ কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও দৃশ্যমান হয়েছে।

বাংলাদেশে অ্যামচেমের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহাদী আমিন বলেন, অ্যামচেম এ দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ আরও বেশি মার্কিন কোম্পানিকে এ দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় আকৃষ্ট করতে চায়। দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরো এগিয়ে যাবে।