প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমিজমা নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও জটিলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে আজ দেশব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন উপলক্ষে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যাবে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত সহজ হবে। অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান বলেন, চলমান ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে আরো সচেতন করবে এবং নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কেও ধারণা দেবে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও বাধা সৃষ্টি করছে। তাই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে, যাতে নাগরিকরা সহজ, দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেবা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না এবং দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। সারাদেশে ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার সেই প্রতিশ্রুতির আরেকটি বাস্তবায়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন, যার বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত। এ অবস্থায় বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি গ্রাম আদালত ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো পদ্ধতির ওপর আরো জোর দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশ ও সমঝোতার মতো পদ্ধতি কার্যকর করা গেলে আদালতের মামলার জট যেমন কমবে, তেমনি দ্রুত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিও সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জমি শুধু সম্পদ নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। এ কারণেই সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জনগণকে সেবা দেয়া কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে বেলা ১১টা ১৯ মিনিটে বাটন প্রেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী এ ‘ভূমি সেবা মেলা ২০২৬’ শুরু হয়েছে। আজ থেকে আগামী ২১ মে পর্যন্ত এ মেলা চলবে।

ভূমি মেলার এবারের মূল প্রতিপাদ্য, জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।

মেলার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনে বিভিন্ন স্টল ও সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় কল সেন্টার, নাগরিক সেবা কেন্দ্র এবং ডে-কেয়ার সেন্টারও ঘুরে দেখেন।