বঙ্গোপসাগরে সেন্ট মার্টিনের কাছে মাছ শিকারে যাওয়া দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভোরে সেন্ট মার্টিনের ছেড়াদিয়ার পূর্ব দিকে সাগরে মাছ শিকারে গেলে সেখান থেকে বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিয়ে যায়।
ট্রলার দুটি মালিক সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস ও নুর মোহাম্মদ। তাদের মধ্যে নুর মোহাম্মদ বলেন, বুধবার আমার ট্রলারে ছয় জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদিয়া এলাকায় মাছ শিকারে যান কবির মাঝি। এক পর্যায়ে বোটের ইঞ্জিন বিকল হলে তারা ওই এলাকার আশপাশে ভাসতে থাকেন। আজ ভোরে ছেঁড়াদিয়ার কাছাকাছি এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা।
সেন্ট মার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া আমার ঘাটের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এ ঘটনায় জেলেদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাগর থেকে দেড় শতাধিক জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে তারা। এসব জেলে এখনো তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাচ্ছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এরই মধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
বিজিবি বলছে, দশ মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। বিজিবির সহায়তায় কয়েক দফায় এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে ফেরত আনা হয়। এখনো ১৫০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে। এর ফলে অনেক জেলে সাগরে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছে।










