চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় এনবিআরের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর মধ্যে প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আহরণের লক্ষ্য ধরা হয় ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটির মোট আহরণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায়। সে অনুযায়ী অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংস্থাটির রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যের তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকায়। ফলে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস শেষে এনবিআরের লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতির হার দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ২২ শতাংশে।

এনবিআরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূলত কাস্টমস খাতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট খাতে সম্পূরক শুল্ক বাবদ রাজস্ব আহরণ সংকুচিত হওয়ার কারণেই এপ্রিলে ঘাটতির পরিমাণ আরো বড় হয়েছে। এ সময় স্থানীয় পর্যায়ে মূসক বাবদ আহরণের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যের তুলনায় পিছিয়ে ছিল সংস্থাটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিলে আমদানি শুল্ক বাবদ রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৩ হাজার ৪১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের এপ্রিলে এর পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকায়। সে অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় এনবিআরের আমদানি শুল্ক বাবদ রাজস্ব আদায় কমেছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ খাত থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৯৩ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩১ হাজার ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি শুল্ক বাবদ রাজস্ব আহরণে সংকোচন হয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অর্থনীতির পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যমতে, মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যে। বেসরকারি খাতেও ঋণ ও পুঁজির সঞ্চালন এখন আগের চেয়ে কম। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতারও প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে। বিশেষ করে যেসব পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাবদ রাজস্ব আহরণ হয় সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর আমদানিও এখন কমতির দিকে।

স্থানীয় পর্যায়ে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বাবদ রাজস্ব আহরণেও বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে এপ্রিলে। গত মাসে স্থানীয় পর্যায়ের সম্পূরক শুল্ক থেকে ৭ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। গত বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৯৭৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী, এপ্রিলে এ খাতে সংকোচনের মাত্রা দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশে। আবার গত মাসে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক বাবদ ১০ হাজার ৪১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আহরণের লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে ৯ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। আয়কর বাবদ ১৪ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে শুধু এপ্রিলে মোট ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআরের রাজস্ব আহরণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকায়।

তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে থাকলেও মাসভিত্তিক হিসাবে এপ্রিলে এনবিআরের রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এর হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশে।