প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফর বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সফরের কথা বলে তিনি লন্ডন গেলেও এখনো দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তার বৈঠকের কোনো সূচিই ঠিক হয়নি। এর মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফরের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাই নানা বিবেচনায় ড. ইউনূসের এবারের সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বর্তমানে কানাডা সফরে আছেন। এজন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো সূচি এখনো ঠিক হয়নি। বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে একজন ব্রিটিশ এমপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছিলেন শফিকুল আলম। তিনি আরো জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে অবস্থানকালে কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যে ফিরে এলে এবং তার শিডিউল (সূচি) পাওয়া গেলে দুজনের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।

অথচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার দেশেই আছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব যেদিন সংবাদ সম্মেলন করেন ওইদিনই কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে শিশু কিং, এলসি ডট স্ট্যানকম্ব এবং অ্যালিস আগিয়ারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। যেখানে তিনি সাউথপোর্টে একটি স্মৃতি উদ্যানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ প্রকল্পের জন্য সরকারি অর্থায়নের ঘোষণা দেন।

এমনকি কিয়ার স্টারমার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন, যেখানে তারা ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ন্যাটোর মিত্রদের জন্য সম্মিলিত প্রতিরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি সাইজওয়েল সি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। লন্ডন টেক উইক ২০২৫-এ এনভিআইডিআইএর সিইওর সঙ্গেও ইভেন্টটির উদ্বোধন করে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল অবশ্য প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) আমি একটা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন এমপি বলেছিলেন যে কিয়ার স্টারমার সম্ভবত কানাডায় গিয়েছেন। এটাকে অনেকে মিসইন্টারপ্রেট করেছেন। আমি বলেছি যে সম্ভবত। তারপরও এটা আমার একটা মিসটেক হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আমরা যখন দেখলাম এটা, পরে আমরা কারেক্ট করেছি যে উনি এখানেই আছেন। ব্রিটেনে আজকে (গতকাল) বাজেটের স্পেনডিং কীভাবে কী হয়েছে সেটার রিভিউ হচ্ছে। সেটা নিয়ে পুরো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ব্যস্ত।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দুদিনের সফরে কানাডায় থাকবেন আগামী শনিবার থেকে। তার এ সফরের কথা বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমার শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কীভাবে সামলানো যায় তা নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হবে। তাদের আলোচনায় নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ও থাকবে।