সিরাজগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে। শুরুতে তৃতীয় শ্রেণীর হলেও ১৯৯২ সালে ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। ২৮ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। কাগজকলমে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীর হলেও সে অর্থে বাড়েনি সেবার মান। দিনে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয় এ শহরে। তবে ডাস্টবিন থেকে সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় তা জমে থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, আবর্জনা ফেলার জন্য তৈরি করা করা হয়নি প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন। এ কারণে জনবহুল ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। পায়ে পায়ে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে শহরে। রাস্তাঘাটে বর্জ্যের দুর্গন্ধ নিত্যসঙ্গী। শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালী খালের উন্মুক্ত স্থানেও ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। ময়লা জমে খালের পানিও দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শহরের বর্জ্য পৌরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন নয়, এসব স্থাপনার কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই আসল বিষয়। অনেক স্টেশনে নেই তরল বর্জ্য ফিল্টারিং ব্যবস্থা, বাউন্ডারি ওয়াল বা স্যানিটারি কাঠামো। ফলে বর্জ্যের তরল অংশ রাস্তায় ছড়িয়ে ড্রেন ও খালের পানি দূষিত করছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

নগরবিদরা বলছেন, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা গঠনের শর্তানুযায়ী পৌর এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শিল্প এলাকা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এছাড়া সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি নির্দিষ্ট জনসংখ্যা ও উন্নত অবকাঠামো থাকতে হয়।

সরজমিনে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। অনেক ডাস্টবিনে নেই তরল বর্জ্য ফিল্টারিং ব্যবস্থা, শহরের কয়েকটি স্থানে বাউন্ডারি ওয়াল বা স্যানিটারি কাঠামো থাকলেও সেগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বাউন্ডারি দেয়া বা স্যানিটারি কাঠামো পুরনো। এ কারণে এসব ডাস্টবিন থেকে ময়লা রাস্তায় চলে আসছে। এছাড়া আবর্জনা অপসারণের সময় প্লাস্টিকের ডাস্টবিনগুলো থেকে ময়লা রাস্তায় ফেলে ট্রাকে ওঠানো হচ্ছে। ফলে বর্জ্যের তরল অংশ রাস্তায় ছড়িয়ে ড্রেন ও খাল দূষিত করছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো পৌরসভাটি ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস এ পৌরসভায়। এছাড়া প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন কাজে পৌর শহরের আসছে। কাঁচাবাজার, মানুষের ব্যবহার করা ময়লা এবং বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলার জন্য সেভাবে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি। শহরের বিভিন্ন মোড়ে প্লাস্টিকের যে ডাস্টবিন দেয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই চুরি হয়ে গেছে। আবার যেগুলো রয়েছে তাও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জনসংখ্যার সঙ্গে বর্জ্যের পরিমাণও বেড়ে যাওয়ায় পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় যানবাহন ও যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয় না। তবে বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বর্জ্য অপসারণের জন্য গাড়ির চাহিদা দেয়া হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় সাফল্য আসবে।’

চার বছর আগে শহরের বড়বাজার, থানা মোড় ও শহরের ভাসানী কলেজের সামনে তিনটি ডিজিটাল ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় করা হয় ১২ লাখ টাকা। পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি ডাস্টবিনগুলো বসানোর পর থেকে প্রায় সবই অকেজো হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অনেকে আবর্জনা ডাস্টবিনের পাশে রাস্তার ওপর ফেলছেন।

সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহাদত হুসেইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি এবং পৌরসভার দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’