গত কয়েক দিনের ঘটনায় অত্যন্ত চিন্তিত, উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে? এটা কি চিন্তা করতে পারেন? গত কয়েকদিনের ঘটনায় আমরা অত্যন্ত চিন্তিত, উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। বাংলাদেশকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? আমাদের সবাইকে দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন কথা বলতে হবে। আজকে কিছু মানুষ নিজেদের বুদ্ধিমান ও দেশপ্রেমিক মনে করেন। আর গোটা জাতিকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

গণমাধ্যমের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ অন্যান্য মিডিয়াতে যে ধরনের আক্রমণ শুরু হয়েছে তার নিন্দা জানাই। যে মিডিয়ার স্বাধীনতার জন্য সারাজীবন লড়াই করলাম সেখানে জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও স্লোগান দেয়া হচ্ছে। এই বাংলাদেশ আমি কখনো দেখতে চাইনি। আগেও না। কারো দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জীবন দিয়ে রক্ষা করতে হবে। এটাই গণতন্ত্র। আমরা এক ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছি কারণ, সে আমার গলা টিপে ধরেছে। অতএব ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখি কিছু সংখ্যক মানুষ আছেন যারা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও লেখেন। আমরা কি বুঝি, আমাদের ভয়টা কোথায়? কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি?

তিনি বলেন, ১৪-১৫ বছর ধরে লড়াই করছি। যেকোনো সময় জেলখানায় যেতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমি বাক, ব্যক্তি ও ভোটের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা লড়াই করে এ জায়গায় এসেছি। সুতরাং ধ্বংসাত্মক বাংলাদেশ দেখতে চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার সম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। আমার দল ও আমি যা বিশ্বাস করি জীবন গেলেও বলব।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার কারো একক নয়। অসংখ্য তরুণ-জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। সুতরাং গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করুন। এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। যদি দেশকে ভালোবাসেন তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। কারো কাছে মাথা নত করবেন না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ডা. মিলন আমাদের অনুপ্রেরণা। তার অবদান কখনো ম্লান হবে না। গণতন্ত্রের সকল শহীদকে শ্রদ্ধা জানাই। আসুন ডা. মিলন যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে জীবন দিয়েছেন সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করি। যার জন্য জীবন দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে কাটিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমাদের ব্যর্থতা যে, শহীদ ডা. মিলনের স্বপ্নকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি।