বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের মূল দায়িত্ব হলো জননিরাপত্তামূলক কাজে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে সহায়তা করা। বিভিন্ন দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করতে হয় তাদের। এসব কাজে তাদের জন্য অতিরিক্ত যে অর্থ বরাদ্দ থাকে, তা ‘সীমিত’। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের কাছে আনসার সদস্যদের ছয় বছরের দায়িত্ব ভাতা বাবদ ২৯ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এ বকেয়ার কারণে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে বেগ পেতে হচ্ছে আনসার ও ভিডিপিকে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; শিগগিরই আনসার সদস্যরা তা পেয়ে যাবেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য প্রায় ৬১ লাখ। এর প্রায় অর্ধেকই নারী। বাহিনীর সদস্যরা ব্যাটালিয়ন আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপিতে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা সন্ত্রাস দমনে পুলিশের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধেও কাজ করছেন তারা। পদ্মা সেতু, জাতীয় সংসদ ভবন, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গেও দায়িত্ব পালন করেন তারা।

সাধারণ আনসার সদস্যরা মূলত কেপিআই বা গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করেন। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য তারা তিন বছরের জন্য অঙ্গীভূত হয়ে থাকেন। তারপর ছয় মাস বিরতি দিয়ে আবার তিন বছরের জন্য কাজ শুরু করেন। আনসার সদর দপ্তরের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুলিশের কাছে গত ছয় বছরের দায়িত্ব ভাতা বকেয়া রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রসহ প্রায় দুই হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৪০০ আনসার সদস্য। নীতিমালা অনুযায়ী, যারা সশস্ত্র দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের দৈনিক ভাতার ২০ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। এ টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটিতে। বকেয়া টাকা পেলে সেটা আনসার সদস্যদের কল্যাণ ফান্ডে যুক্ত হয়।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত একজন আনসার সদস্যকে নির্বাচন উপলক্ষে টানা তিনদিন দায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য অস্ত্রধারী আনসারকে ২ হাজার ৪৯০ ও অস্ত্রবিহীন আনসারকে ২ হাজার ১৯০ টাকা সরকারি ভাতা দেয়া হয়। কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত ও তিনদিনের খাবার-দাবার বাবদ একজন আনসারের নিজের পকেট থেকে অগ্রিম খরচ করতে হয় আরো প্রায় ১ হাজার টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব ভাতা না পাওয়ায় তাদের বেশ কষ্টে দিন কাটাতে হয়।’

আনসারের বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আনসার সদস্যদের দায়িত্ব ভাতার একটা অংশ বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া পরিশোধের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবিলম্বে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’