লক্ষ্মীপুরের পোদ্দার বাজারে পেঁয়াজ চুরির অভিযোগ এনে ষাটোর্ধ এক ব্যবসায়ীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবদুর রহিমসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. ফারুক।

শনিবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম ছাড়া আটক অন্যান্যরা হলেন—  আবদুর রহিমের ভাই আবুল কালাম আজাদ (৫২) ও একই ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের শরাফত উল্যাহ (৫৩)।

এর আগে শনিবার সকালে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দার বাজারে পেঁয়াজ চুরির অভিযোগ এনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ৩ ঘণ্টা বেঁধে মারধরসহ নির্যাতন করা হয় ওই ব্যবসায়ীকে। পরে শালিশ বৈঠকের নামে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিকেলে এ ঘটনার একটি ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে 
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার দশঘরিয়া বাজারের ফারুক স্টোর নামে একটি মুদি দোকানের মালিক। তিনি নিজেও স্থানীয় ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফারুকের দুই হাত রশি দিয়ে  পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা হয় এবং দুই পা খুঁটির সাথে লোহার শিকল দিয়ে আটকে রাকা  হয়। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাকে এভাবে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীসহ অন্যান্যরা তাকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করেন।

পরে বেলা ১১ টার দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ছাড়িয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসে নেয়া হয় তাকে। পরে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে শালিসে ফারুককে ৩০  হাজার টাকা জরিমানা করে স্বজনদের কাছ থেকে তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। সালিশে আটক ও নির্যানের ঘটনা নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করবে না মর্মে মুচলেকাও নেয়া হয় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। তবে সালিশে টাকা আদায়ের কথা অস্বীকার করেছেন পোদ্দার বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। অবশ্য মুচলেকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

হারুনুর রশিদের ভাষ্য, বাজারের মসজিদ মার্কেট এলাকায় চারটি দোকানে পেঁয়াজ রসুন চুরির  সময় লোকজন তাকে আটক করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তিকে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেন। তবে চুরি হওয়া দোকানগুলোর বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

এদিকে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম জানান, বাজারের একটি দোকান থেকে ১ কেজি পেঁয়াজ চুরির সময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে চান না চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এমদাদুল হক। তবে চুরির অভিযোগ দিয়ে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের দায়ে তিনজনকে আটকের কথা নিশ্চিত করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তারা। এ ঘটনা নিয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।