জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রে আমরা মূলত একটি দুষ্ট চক্রের মধ্যে আটকে আছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আজ রোববার বিকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও সংবাদ মাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমের যৌথ উদ্যোগ আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পর দেশে মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। তবে সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে, তার তুলনায় এ সমন্বয় খুব একটা বেশি নয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের কোনো দোষ নেই, কিন্তু আমরাই সবচেয়ে বেশি জরিমানা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট চলছে তার কারণে সাধারণত কেতাবি অর্থনীতিবিদ হলে বলতেন, যে ধরনের দামের বৃদ্ধি ঘটেছে তার সঙ্গে সমন্বয় করতে। কিন্তু কোনো সরকার যদি জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী হয় এবং মনে করে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, তখন তার পক্ষে সমন্বয় করা দুরূহ।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সাধারণত আমাদের দেশে যেটা হয় না, কিন্তু আমাদের সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর খেয়াল করেছি এবার রমজানে মূল্যস্ফীতি কমে গিয়েছিল। কিন্তু দাম সমন্বয় করা হয়েছে সে কারণে মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। তবে ন্যূনতম সমন্বয় হয়েছে। যে পরিমাণ আমরা ভর্তুকি গুনছি তার তুলনায় সমন্বয় খুব বেশি নয়। ওই সময়ে যদি ডিজেলের দাম বাড়ানো হতো তাহলে কৃষির উৎপাদন ব্যাহত হতো। আমরা এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রে আমরা মূলত একটি ‘দুষ্ট চক্রের’ মধ্যে আটকে আছি। এ সংকটকে যদি আমরা মোটা দাগে তিনটি ভাগে বিভক্ত করি, তবে প্রথমটি হলো—বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা এবং তার প্রকৃত ব্যবহারের মধ্যে বিস্তর ফারাক। এ ফারাকের কারণে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা সক্ষমতার মাশুল হিসেবে জনগণের বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিগত সময়ে এমন কিছু অস্বচ্ছ চুক্তি করা হয়েছে এবং সেগুলোকে আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে, যা প্রকৃত ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তৃতীয়ত, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী এবং টেকসই অর্থনীতির জন্য যে ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল, তা চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় এবং সেটি দেশীয় উদ্যোগে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেটি আগামী বাজেটেই সবাই দেখতে পাবেন।