বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকবে, তা নিরসনে আলোচনা হবে। তবে জাতীয় কোনো ইস্যুতে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যাতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর নয়াপল্টনে গতকাল বিজয় শোভাযাত্রা-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হয় এ সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। সেখানে তারেক রহমানের বক্তব্যের পর বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় বিজয় শোভাযাত্রা। জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। এতে আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। ফলে ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কটি লোকজনে ভরে ওঠে। বিজয় শোভাযাত্রাটি পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন মোড় ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সড়ক হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এদিন ঢাকা ছাড়াও সব বিভাগীয় শহরে একযোগে বিজয় শোভাযাত্রা করে বিএনপি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের আমলে দেশে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। আমি বলব আজকের এ যাত্রা হলো অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথের যাত্রা। তবে এ যাত্রা কিন্তু খুব সহজ নয়।’
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি আগামী ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গতকাল জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে। জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের এসব উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার যাত্রায় বর্তমানে আমরা ইতিহাসের যে সন্ধিক্ষণ পার করছি, তাতে পৌঁছতে জনগণকে দেড় দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে এ আন্দোলনে আমরা আমাদের হাজারো সহকর্মীকে হারিয়েছি, আমাদের অনেক সন্তান-স্বজনের বুকের তাজা রক্ত দেখতে হয়েছে।’
গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদ থাকবে। কিন্তু সেই ভিন্নমত নিরসনে আলোচনা হবে। গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম, দর্শন কিংবা মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি কী ধরনের রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতি করবে, সে বিষয়ে এরই মধ্যে ৩১ দফার একটি রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের সামনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যদি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পাবে না। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, যিনি যে রাজনৈতিক দলের সদস্যই হোন না কেন, আমাদের অবশ্যই সবার কথা মনে রাখা দরকার। দেশে যদি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকে, তাহলে আমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্র গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনই আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে।’
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও সালাহউদ্দিন আহমদ। সমাবেশে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, শাহজাদা মিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিতি ছিলেন।










