নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আমি দেখেছি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। নারীরাও আছে। তবে ট্রেনে আগুন দেয়ার ঘটনায় কিছুটা তো প্রভাব পড়েছে। বিরোধী পক্ষ থেকে আবার বলা হয়েছে ভোট কেন্দ্রে আসবে যারা লাশ হয়ে ফিরবে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ একটু ভয় পাবেই। সরষের ভেতর ভূত আছে। যারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন তাদের ভেতরও ভূত আছে। তারা চাইছে ভোটটা ঘোরাতে। আমি আমার এলাকায় এমন খবর পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘একটি কেন্দ্রে খবর পেলাম সেখানে ভোটারদের বের করে দেয়া হচ্ছে। পরে আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি। তবে এ সময় দুই-তিন হাজার ভোটার ঘুরে চলে গেছে। কিছু কিছু কেন্দ্রে লোকজন আছেন। যারা অন্য কারও পারপাস সার্ভ করার চেষ্টা করছে। যারা মানুষ মারছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। আমি আমার দলে খারাপ দেখলে প্রতিবাদ করি। আপনারাও সাংবাদিক হিসেবে প্রতিবাদ করুন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, যুবকরা এখন সচেতন।’

গতকাল বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়া শেষে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনের পরিবেশ ভালো দেখছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন আওয়ামী লীগের সম্পদ না, তিনি বাংলাদেশের সম্পদ। কারণ ওদের হাতে গেলে দেশ শেষ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের আকাশে শকুন উড়ছে। এ শকুন আন্তর্জাতিক শকুন। ওদের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি।’

তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় কোথায় কী ভোট হয়েছে আমি জানি না। সকাল থেকে এবাদতে ছিলাম। তারপর বাবা, মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেছি। আমরা ওয়াদা করেছিলাম উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেব। আমি আমার নাতিকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। এই ভোট ওদের ভবিষ্যতের জন্য। ওদের ভবিষ্যৎ শেখ হাসিনা। আমাদের ভবিষ্যৎ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাকে হত্যার পর আমাদের ভবিষ্যৎ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। এখনো আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চূর্ণ-বিচূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি ওদের রাজনৈতিক দল বলি না। ওরা আগুন সন্ত্রাসীদের দল। ট্রেনে আগুন দিয়ে চারজনকে পুড়িয়ে দিয়েছে। এদের রাজনৈতিক দল বললে রাজনীতিবিদদের অপমান করা হবে।’