দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে নীরবে চলছে কয়লা চোরাচালান। অবৈধ পথে এ ধরনের খনিজ সামগ্রী আনা-নেয়ার রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সিলেট ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি নদী। পাঁচ বছরে সীমান্তে চোরাচালানের সময় জব্দ হয়েছে প্রায় ২০ লাখ কেজি কয়লা। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ১২টি। কয়লা চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-২২ সাল পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালানের সময় জব্দ করা হয়েছে ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৩৭২ কেজি কয়লা। এর মধ্যে দুই বছরে কয়লা চোরাচালানের প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। কেবল ২০২২ সালেই চোরাচালানের সময় জব্দ হয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮০ কেজি কয়লা। আর ২০২১ সালে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ২১৫ কেজি। ২০২০ সালে কয়লা জব্দের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯০০ কেজি। পাঁচ বছরে কয়লা চোরাচালানের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ১২টি।
কয়লা চোরাচালান প্রবণ বেশ কয়েকটি এলাকা ও রুট চিহ্নিত করেছে বিজিবি। তাদের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী, জঙ্গলবাড়ী, পূর্ব লাকমা, রজনী লাইন, পশ্চিম লাকমা, লাকমাছড়া, চানপুর, লালঘাট, বাঁশতলা, চারাগাঁও, বুরুঙ্গাছড়া, টেকেরঘাট, এলসি পয়েন্ট ও বালিয়াঘাটা থেকে বেশি কয়লা জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি রামগড় অঞ্চলের হেয়াকো বাজার, মজুমদার রাবার বাগান, কয়লারমুখ চেকপোস্ট এবং নেত্রকোনা জেলার সমেশ্বরী নদীর পাড়, কয়লা পোর্ট, ভবানীপুর, বটতলা, সাকুয়াছড়া ও নকলাই এলাকা থেকে চোরাচালানের কয়লা জব্দ করা হয়েছে।
কয়লা চোরাচালানের ঘটনায় দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত ব্যবহার করে স্থানীয় বেশ কয়েকটি চক্র কয়লা চোরাচালান করে আসছে। সেখানে বড়ছড়া গ্রামের মৃত ইসমাঈলের ছেলে ইছাক মিয়ার নেতৃত্বেই মূলত চক্রটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া লাকমা গ্রামের সিরাজ মহালদারের ছেলে রতন মহালদার, লালঘাট গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী কালাম গংদের ছত্রছায়ায় তাহিরপুর উপজেলার রজনী লাইন, টেকেরঘাট, লাকমা, চারাগাঁও, কলাগাও- বাঁশতলা, বিরেন্দ্রগর ও বাগলী সীমান্ত এলাকা দিয়ে কয়লা চোরাচালান হচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর রাতে কয়লা চোরাচালানে বাধা দিলে উপজেলার লাউড়েরগড় সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। সে সময় চোরাকারবারিদের পক্ষ নেয়ায় এলাকাবাসী ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে বিজিবির দুই কর্মকর্তা, সৈনিক ও শিশুসহ ১০ জন আহত হন। গত বছরের ৪ অক্টোবর ট্যাকেরঘাট সীমান্ত দিয়ে কয়লা চোরাচালানের সময় উত্তর বড় দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামের কেনু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়া একই বছরের ৭ নভেম্বর চানপুর সীমান্তের ১২০৫ নম্বর পিলার অতিক্রম করে কয়লা চোরাচালানের সময় আটক করা হয় উপজেলার সীমান্তবর্তী চানপুর গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে নজির মিয়াকে।
কয়লা চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সীমান্তের চোরাচালান রোধে বিজিবির সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর ফলে পাঁচ বছরে সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৩৭২ কেজি কয়লা জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কয়লাগুলো সংশ্লিষ্ট শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে।’










