অব্যাহত ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের তিন হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হলেও গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টির মাত্রা বেড়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে বাসিন্দারা।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। অনেক পরিবার চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেনি। টেকনাফ পৌরসভাসংলগ্ন কলেজপাড়ার অধিকাংশ বসতবাড়ি, শীলবনিয়া পাড়া, ডেইলপাড়া, জালিয়াপাড়া, অলিয়াবাদ, খানকার ডেইল, চৌধুরীপাড়া, কেকেপাড়া প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ সরকারি কলেজ, আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরো প্রাঙ্গণ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী, চৌধুরীপাড়া, কোনারপাড়া, ওয়াব্রাং, মৌলভীবাজার, ফুলের ডেইল, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী, লম্বাবিল, কানজরপাড়া মিনাবাজারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জামাল হোসাইন বলেন, ভারি বৃষ্টিতে অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে বাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মূলত খাল দখলের পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে।
অন্যদিকে সাবরাং ইউনিয়নের কুরাবুইজ্জাপাড়া, ফতেহলিয়াপাড়া, মুন্ডার ডেইল, চান্দলীপাড়ার একাংশ, হাদুরছড়া, খুরের মুখের অধিকাংশ বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়া, হাজিরপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার দেড় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, এভাবে একটানা বৃষ্টি খুব কম সময়ে দেখা গেছে। চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। অধিকাংশ বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি পৌরসভার কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মানুষের মাঝে তিনবেলা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।










