ঠাকুরগাঁও জেলায় গড়ে প্রতি দুদিনে একজন করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে (২০২৫ সাল) জেলায় আত্মহত্যা করে মারা গেছেন ১৯৭ জন। এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে ২১২টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলায় আত্মহত্যার এ আশঙ্কাজনক পরিমাণ ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী ও কিশোরীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। পারিবারিক কলহ, দারিদ্র্য, ঋণের চাপ, প্রেমঘটিত হতাশা, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবসাদ—এসব কারণকে আত্মহত্যার প্রধান প্ররোচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও লোকসাহিত্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের অনেকেরই সামাজিক যোগাযোগ কমে গেছে। আড্ডা, বন্ধুত্ব ও কথা বলার মানুষ নেই। অনলাইনে আসক্তি বেড়েছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। তাহলেই এ সংকট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জলধি নাথ রায় বলেন, ‘প্রতিটি আত্মহত্যার পেছনে ভিন্ন কারণ কাজ করে। দীর্ঘদিন হতাশা ও মানসিক চাপে থাকার ফলে এ ধরনের প্রবণতা বাড়ে। বিষয়টি সমষ্টিগতভাবে তদারকির আওতায় আনতে পারলে আত্মহত্যার হার কমানো সম্ভব।’
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘জেলায় নারী ও কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করেও অনেক শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এ প্রবণতা কমানো সম্ভব।’










