আনোয়ারায় বেড়িবাঁধের জন্য বরাদ্দের এক টাকাও দুর্নীতি বা লুটপাট হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, বেড়িবাঁধের সমস্যার কারণেই বছরের পর বছর এ কৃত্রিম বন্যা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেড়িবাঁধের নামে বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তবে এবার বাজেটে বেড়িবাঁধের জন্য যে টাকা রাখা হয়েছে, তার একটা টাকাও আমরা দুর্নীতি বা লুটপাট হতে দেব না। সংসদে আমরা এ বেড়িবাঁধের কথা শক্তভাবে তুলব, যাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করা হয়।

আজ রোববার চট্টগ্রামের আনোয়ারার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজারে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের এ দুর্যোগকালীন সময়ে যে কারণেই হোক, সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। এখন দোষ দিয়ে লাভ নেই। মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দল-মত নির্বিশেষে সামর্থ্যবানসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বাজেট নিয়ে বারবার কথা বলছি। কক্সবাজার, পার্বত্য অঞ্চল ও চট্টগ্রামে যখনই বৃষ্টি শুরু হয়, আমরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে সোচ্চার হয়েছি। ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী তখন সংসদে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বললেও, বর্তমানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের বেহাল দশা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা আছে। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা আগে থেকেই এখানে কাজ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে এখানে কয়েকশো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্য কিংবা প্রশাসনের কাউকে এখানে দেখা যায়নি। মানুষ ত্রাণও পায়নি।

এ সময় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিকসহ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন।