শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে হামলা ও লুটপাট বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৪ বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গণবিরোধী আওয়ামী লীগ সরকারের লোকেরা নিরাপদে সরে গেলেও বাংলাদেশকে রেখে গেছে চরম নৈরাজ্যকর এক পরিস্থিতিতে। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে দেশবাসীকে।

নাগরিকরা জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের কবল থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর পরই বিভিন্ন স্থানে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গণধোলাই, ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। এতে বিশেষ আতঙ্কে পড়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী, আদিবাসীসহ নানা লিঙ্গ ও বর্ণের মানুষ। অনেক মন্দির, বাসভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানে হামলা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাদের ওপর শারীরিক নিপীড়নও চালানো হচ্ছে।

নাগরিকরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছেন, পুলিশ বাহিনী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসন টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে গুলি চালালেও এখন তারা কর্মবিরতিতে আছে। দেশের এ সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয়, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জানমাল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা অবাধে লুটপাট, ডাকাতি, হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

এ কারণ নাগরিকরা মনে করেন অবিলম্বে পুলিশের সব সদস্যসহ আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিজ উদ্যোগে সক্রিয় হতে হবে। মানুষের জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা দিতে হবে। চাকরিবিধি অনুযায়ী তাদের যে দায়িত্ব কোনো অবস্থায় তা থেকে বিরতি নেয়া যাবে না। অতীতের মতো আবারো যদি পুলিশ জনগণের ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে দেশ গভীর অনিশ্চয়তায় ডুবে যাবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আলোচিত্রী শহিদুল আলম, শিক্ষাবিদ ড. আজফার হোসেন, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক মানস চৌধুরী, আ-আল মামুন, কবি কাজল শাহনেওয়াজ, নির্মাতা মুহাম্মদ কাইউম, কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম, জিয়া হাশান, পাপড়ি রহমান, নৃবিজ্ঞানী সায়েমা খাতুন, প্রকৌশলী লুতফুল্লাহিল মজিদ রিয়াজ, ওমর তারেক চৌধুরী, মাহবুব মোর্শেদ, নাদিন শান্তা মুরশিদ, নাভিন মুরশিদ, মোশরেকা অদিতি হক, অস্ট্রিক আর্যু, দিলওয়ার হাসান, মোহাম্মদ রোমেল, কামরুল আহসান, সোহেলি মনি, বায়েজিদ বোস্তামী, সালাহ উদ্দিন শুভ্র, অর্বাক আদিত্য, হাসান জামিল, রাখাল রাহা, ফেরদৌস আরা রুমী, কৌশিক আহমেদ, বাকী বিল্লাহ, ফারুক ওয়াসিফ, রাজ্য, মারুফ বরকত, সেলিম খান, তানজিনা হোসেন, আসফিয়া আজিম, শামিমা সুলতানা, খাদিজা রহমান, আহমেদ স্বপন মাহমুদ, মোহাম্মদ আরজু, টোকন ঠাকুর, কে এম রাকিব, মুরাদ কিবরিয়া, মাহবুব সুমন, বীথি ঘোষ, সুস্মিতা রায় সুপ্তি, মোহাম্মদ আজম, ফাখরুল আরেফীন, দীপক রায়, মাহবুব রাহমান, দীপক সুমন, খাদিজাতুল কোবরা ও ইসমাঈল হোসেন।